ভিন্ন নামে কারখানা চালাচ্ছে ড্রাগন গ্রুপ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

পাওনার দাবিতে কাল থেকে শ্রম ভবনে অবস্থানের ঘোষণা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানা ড্রাগন সোয়েটার এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার গত এপ্রিল থেকে বন্ধ রেখেছে মালিকপক্ষ। কিন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকের নিজস্ব ভবনে ভিন্ন নামে সাবকন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে (ঠিকা কাজ) অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির চাকরি হারানো শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ অন্যান্য পাওনার দাবিতে অনেকদিন থেকেই আন্দোলন করে আসছে। সুরাহা না পেয়ে এবার রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রম ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকরা কারখানা মালিকের বাসভবন, গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও ও গণভবন অভিমুখে মিছিল কর্মসূচি পালন করবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্টনের মুক্তি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতাদের পাশাপাশি ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারকাখানার কাজ হারানো শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, জাতীয় শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হামজা খান, গার্মেন্ট টিইউসির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মালিকপক্ষ করোনা মহামারির সুযোগ নিয়ে এপ্রিল মাস থেকে কারখানা বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা না দেওয়া হলেও বর্তমানে মালিকপক্ষ স্থায়ী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে একই ভবনে ভিন্ন একটি কারখানার নামে ঠিকা ভিত্তিতে অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে উত্পাদন চালাচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের পাওনার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েছে। সরকার কর্তৃক গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি সংকটের সুরাহা করতে কয়েকবার সভায় বসলেও মালিক পক্ষকে আইন মানতে বাধ্য করতে পারেনি। উপরন্তু পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব ভুলে মালিকের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, বেতন-ভাতা নিয়ে অনিয়ম, নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অসন্তোষ চলে আসছে ড্রাগন গ্রুপের কারখানাগুলোতে। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকরা রাস্তায়ও নেমেছে। অন্যান্য কারখানার ক্ষেত্রে এ ধরনের ইস্যুতে অপেক্ষাকৃত দ্রুত সমাধান মিললেও এ কারখানাটিতে দীর্ঘদিনেও শ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি।