একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এদেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন আমাদের মধ্যে। জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এভাবেই স্মৃতিচারণ করলেন তার সহযাত্রী সাংবাদিক ও কবি-সাহিত্যিকরা।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব ও প্রতিদিনের সংবাদ কার্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বাদ জোহর রাহাত খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান প্রমুখ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের পক্ষেও মরহুমের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া বাংলা একাডেমি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রতিদিনের সংবাদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাহাত খান একজন প্রগতিশীল সাংবাদিক ছিলেন এবং সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে লেখালেখি করেছেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম যে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন হয় তার কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাহাত খান। আমাদের গর্ব রাহাত ভাই সেই বয়সে সাহিত্যে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, রাহাত খানের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কথাসাহিত্য ও সাংবাদিকতায় একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রাহাত খান শুধু কর্মজীবনে নয়, ব্যক্তি জীবনেও নিরহংকার ও অমায়িক মানুষ ছিলেন।
রাহাত খানের সহধর্মিণী অপর্ণা খান বলেন, আপনাদের সবার কাছে রাহাত খানের জন্য আমি দোয়াপ্রার্থী। এ দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিভিন্ন মহলের শোক
রাহাত খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আরো বাণী দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রমুখ।
এছাড়া শোক জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি প্রমুখ।
