বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষককে অবশেষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুম আলী বেগকে (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে শুক্রবার রাতে জরুরি বৈঠক শেষে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানান অধ্যক্ষ। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষক ইংরেজির প্রভাষক আবদুল মোতালেব ও বাংলার প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
জানা গেছে, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাক্তন দুই ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থামাতে জেলা প্রশাসক শুক্রবার রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তার বাংলোয় ডেকে নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেন। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন —বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান। জানা গেছে, এক ছাত্রীকে ইংরেজি প্রভাষকের অশ্লীল প্রস্তাবের স্ক্রিনশট সামাজিক ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। অভিযুক্ত ইংরেজির প্রভাষক আবদুল মোতালেব বলেন, ‘ফেসবুকে চ্যাটিংয়ের সময় তার মোবাইলটা মিস ইউজ (অপব্যবহার) হয়েছে। এ নিয়ে এখন আর কিছুই বলতে চাই না।’
এদিকে বাংলার প্রভাষকের বিরুদ্ধে গত ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এক ছাত্রী। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে ডাকা হয় মেয়েটিকে। সেখানে মৌখিকভাবে শিক্ষক ক্ষমা চান। অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগ প্রত্যাহারে ঐ ছাত্রীকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটিই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে বিষয়টির মিটমাট হয়ে যায়।’ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) মাসুম আলী বেগও দাবি করেন, ‘বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেলে অভিযোগের তদন্তের আর প্রয়োজন হয়নি।’
