করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রথম চিকিৎসক হিসেবে মারা যাওয়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসাবে সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা পেয়েছেন। মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনের ভায়রাভাই শিক্ষক খসরুজাজামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোমবার সন্ধ্যায়। ঈদুল আযহার পর পরেই ৫০ লাখ টাকা মঈনউদ্দিনের স্ত্রী ডা. চৌধুরী রিফাত পেয়েছেন বলে তিনি জানান। খসরুজাজামান জানান, ডা. চৌধুরী রিফাত এখনো শোকে মুহ্যমান। কারো সাথে তেমন কথা বলতে চান না।
গত ৫ এপ্রিল ডা: মঈন করোনা আক্রান্ত হন। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ৭ এপ্রিল সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা আইসোলেশনে সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ৮ এপ্রিল তাকে এ্যম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় ১৫ এপ্রিল বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।
ডা: মঈন ছিলেন সিলেটের একজন মেধাবী চিকিৎসক। তিনি মেডিসিনের পাশাপাশি কার্ডিলজিরও চিকিৎসক ছিলেন। এফসিপিএস-এর পাশাপাশি তিনি কার্ডিওলজিতে এমডি করেন। রোগী সহ সর্ব মহলে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নাদামপুর গ্রামে। সেখানে তিনি প্রতি শুক্রবার রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিতেন।
গ্রামের স্কুল থেকে পাঠশালা পাশের পর তিনি ছাতকের ধারণ নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলে।
সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাসের পর তিনি এফসিপিএস ও এমডি কোর্স স¤পন্ন করেন। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর কিছুদিন পূর্বে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ কলেজে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ‘গরীবের ডাক্তার’ বলে খ্যাত মঈন উদ্দিনের মৃত্যু চিকিৎসক মহল সহ বিভিন্ন মহলে বেশ নাড়া দেয়। মৃত্যুর পর তার গ্রামের বাড়ীতেই সমাহিত করা হয়।
এদিকে ডা. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী চৌধুরী রিফাত গত ২৭ এপ্রিল সরকারের কাছে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ তার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয় ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়।
এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে কোনও চিকিৎসকের মৃত্যু হলে বা আক্রান্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এর প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, মার্চ মাস থেকে যারা কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছেন, আমি তাদের পুরস্কৃত করতে চাই। তিনি বলেন, সরকার তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেবে। এছাড়াও দায়িত্ব পালনের সময় কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তাদের জন্য ৫-১০ লাখ টাকার একটি স্বাস্থ্যবিমা থাকবে। কেউ মারা গেলে স্বাস্থ্যবিমার পরিমাণ পাঁচগুণ বেশি হবে।
ইত্তেফাক/এসআই
