বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ভেঙে ৩৯ বিলিয়ন (৩ হাজার ৯০০ কোটি ) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রিজার্ভ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ কোটি টাকা। মূলত, কাঙ্ক্ষীত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি, আমদানি খরচ কমে যাওয়া এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের কারণেই রিজার্ভের এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রিজার্ভ বাড়লেও তা সতর্কভাবে খরচ বা বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দিন শেষে রিজার্ভ তিন হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে পৌঁছে। অন্য সময় রিজার্ভ বাড়ার ক্ষেত্রে রপ্তানি ভালো ভূমিকা পালন করলেও গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি বাণিজ্য অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছে। করোনার আগে থেকেই রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছিল। করোনা আসার পর তা খুবই খারাপ অবস্থায় গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসের ২৭ দিনে ১৭২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের পুরো আগস্ট মাসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এ সময়ে আইএমএফসহ উন্নয়ন সংস্থাগুলো আর্থিক সহায়তা ও ঋণ ছাড় করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ এসেছে। অন্যদিকে গত কয়েক মাসে আমদানি খরচ বেশ কমেছে। এসব কারণে বৈদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের দায় ও এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় শোধ করলে এ রিজার্ভ আবারও কমে যাবে বলছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।
বাজার থেকে ডলার কিনে আরো বেশি রিজার্ভ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এখন বাজার থেকে ডলার কিনে আরো বেশি রিজার্ভ গড়তে হবে। তাতে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে এ রিজার্ভ কাজে লাগানো যাবে বলে তিনি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আছে তা দিয়ে আট মাসের বেশি আমাদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
