নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির কথিত গণধর্ষণ ও হত্যার জবানবন্দি এবং স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (বরখাস্ত) শামীম আল মামুন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে উপস্থিত হয়ে এই ব্যাখ্যা দেন। তবে আদালতে তারা কী বলেছেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্তাধীন মামলা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। এদিকে মামলার বর্তমান ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে গত ৯ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ন কবীরের খাসকামরায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামি আবদুল্লাহ ও রকিব ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একই দিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় মাঝি খলিলুর রহমান। আবদুল্লাহর ১০ লাইনের জবানবন্দিতে বলা হয়, ‘আমার নাম আবদুল্লাহ। আমার বয়স ২২ বছর। ঐ ছাত্রীর সঙ্গে আমার প্রায় দেড় মাস যাবত্ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৪ জুলাই আমি তাকে নিয়ে ইস্পাহানি ঘুরতে যাই। ২ নম্বর আসামি রকিবের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এরপর ইস্পাহানি ঘাট হয়ে খলিল মাঝির নৌকায় উঠি। নৌকা নিয়ে নদীতে ঘুরতে থাকি। ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেলে রাত অনুমান ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আমি ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণ করি। আমার ধর্ষণ করা শেষ হলে মাঝি খলিল জোর করে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ঐ ছাত্রী চিত্কার-চ্যাঁচামেচি শুরু করলে আমি তাকে গলা টিপে হত্যা করি। এরপর আমি ও খলিল মাঝি দুজন মিলে মাঝ নদীতে লাশ ফেলে দেই।’
অন্যদিকে রকিব তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘আমি বন্দর ঘাটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাই (যেখান থেকে আবদুল্লার বয়ানে উল্লেখ করা ইস্পাহানি ঘাটের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার)। আমি আবদুল্লাহ এবং ঐ ছাত্রীকে ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে আসি।’ অন্যদিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের কাছে দেওয়া মাত্র ১০ লাইনের জবানবন্দিতে মাঝি খলিলুর রহমান বলেছে, ‘আনুমানিক এক মাস আগে আবদুল্লাহ নামে একজন আমার নৌকা ভাড়া করে। আবদুল্লাহর সঙ্গে একটা মেয়ে ছিল। সন্ধ্যার পর তারা আমার নৌকায় ওঠে। এরপর ছেলেটা জোরপূর্বক মেয়েটাকে ধর্ষণ করে। পরে আমিও মেয়েটিকে ধর্ষণ করি। মেয়েটি চিত্কার করলে আবদুল্লাহ মেয়েটির গলা টিপে ধরে। আমাকে পা ধরতে বললে আমি পা চেপে ধরি। আবদুল্লাহ মেয়েটিকে গলা টিপে মেরে ফেলে এবং দুজন মিলে মেয়েটিকে পানিতে ফেলে দেই। এরপর আমি আবদুল্লাহকে নামিয়ে দেই। ঘটনাটি শীতলক্ষ্যা নদীতে।’
