আগামী ১০ বছরে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত দ্বিগুণ করবে চীন। এ সময়ের মধ্যেই দেশটি স্থলপথ, আকাশপথ ও সমুদ্রপথে পারমাণবিক হামলা চালানোর মতো সক্ষমতাও অর্জন করে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) উপস্থাপিত বার্ষিক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে বারবারই আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। তবে চীনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সাড়া পাওয়া যায়নি। গত জুলাইয়ে এক জ্যেষ্ঠ চীনা কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক অস্ত্রের পরিমাণ কমিয়ে চীনের পর্যায়ে নিয়ে আসতে রাজি হয়, তবেই কেবল ত্রিপক্ষীয় সে আলোচনায় অংশ নেবে বেইজিং। এ বছরের শুরুর দিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যতটা সম্ভব কম সময়ের মধ্যে বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করা প্রয়োজন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার কংগ্রেসে চীনের পারমাণবিক সক্ষমতাবিষয়ক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পেন্টাগন। এতে সতর্ক করে বলা হয়, চীন পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পথে আছে। দ্য ফেডারেশন আমেরিকান সায়েন্টিস্টের হিসাব অনুযায়ী চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ৩২০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড রয়েছে। চীনবিষয়ক মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাড সাব্রাজিয়া কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘অবশ্যই এ সংখ্যাটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। পাশাপাশি বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিকাশের গতিসীমা নিয়েও উদ্বিগ্ন আমরা।’ তিনি আরো বলেন, চীন পারমাণবিক ট্রায়াড চালানোর (জল, স্থল ও আকাশপথে হামলা) সক্ষমতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দেশটি এরই মধ্যে আকাশ থেকে হামলার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের অক্টোবরে চীন প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল যে, তারা পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন এইচ-৬ এন বোমারু বিমান তৈরি করেছে।
