বুড়ো ‘প্রফেসরের’ আরেক ভেলকি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৭

৩৯ বছর ৩২২ দিন, আর কয় দিন পরই বয়স চল্লিশ পার হবে। এর মধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন!

খেলা তো দূরে থাক, এ অবস্থায় মানুষ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেই ভয় পায়। কিন্তু তিনি আর দশ জনের মতো সাধারণ নন। তিনি ‘প্রফেসর’ মোহাম্মদ হাফিজ।

করোনাকে জয় করে ইংল্যান্ডে এসেছেন। সেই সঙ্গে তরুণ সব ক্রিকেটারদের টেক্কা দিয়ে আরো এক দফা ব্যাটে ঝড় তুলেছেন হাফিজ। আর তার ব্যাটে ভর করেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে দেশে ফিরতে পারছে সফরকারী দলটি।

বিশেষ ব্যবস্থার চলতি ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্ট সিরিজ হেরেছে পাকিস্তান। প্রথম টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। দ্বিতীয়টি ৫ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। আর শেষটি জিতে সিরিজ বাঁচাল পাকিস্তান। আর এ সিরিজের নায়ক সেই পুরোনো মোহাম্মদ হাফিজ।

হাফিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্ণময় এক চরিত্র। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছেন। মধ্যে অধিনায়কত্ব করেছেন, বোলিং নিষিদ্ধ হয়েছে, আবার ফিরে এসেছেন। সবমিলিয়ে নিজেকে সেরা অবস্থায় ধরে রেখেছেন প্রায় ১৭ বছর ধরে। পুরো ক্যারিয়ারে ৪১টি দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন।

ক্রিকেটাররা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আস্তে আস্তে অচল হয়ে ওঠেন। কিন্তু হাফিজের ক্ষেত্রে ঘটছে উলটোটা। তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম ওভারের খেলায় আরো প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছেন। ইদানীং টি-টোয়েন্টিতে আছেন ভয়ানক ফর্মে।

সর্বশেষ ১০টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে অবিশ্বাস্য ৮০.৩৩ গড়ে ৪৮২ রান করেছেন। এমনিতেই তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেট ১০০র ওপরে। এ সময়ে রান করেছেন ১৪৫.৬১ স্ট্রাইক রেটে, করেছেন ৪টি ফিফটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ৬৯ রান করেছিলেন। আর শেষ এই ম্যাচে খেললেন ৫২ বলে ৮৬ রানের ইনিংস।

পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভালো করতে পারেনি। ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ছিল। এরপর ৫৪ রান করা অভিষিক্ত হায়দার আলীকে নিয়ে টেনে তোলেন হাফিজ। তিনি ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মেরেছেন। পাকিস্তান ৪ উইকেটে ১৯০ রান করে। জবাবে মইন আলীর ৬১ রানের পরও ইংল্যান্ড ১৮৫ রানে থেমে যায়।

নিজের এই বীরত্বের পরও হাফিজ প্রশংসাটা করেছেন তরুণ হায়দার আলীর। তিনি বলছিলেন, ‘চাপের মধ্যে সে দারুণ খেলেছে এবং নিজেকে মেলে ধরেছে। আমি স্রেফ তাকে বলছিলাম নিজের ওপর আস্থা রাখতে, বলছিলাম যে, ‘তুমি ভালো খেলছ, এভাবেই চালিয়ে যাও।’ এটা দারুণ যে আমাদের সিস্টেম থেকে তরুণরা উঠে আসছে এবং পারফর্ম করছে।’

আর নিজের পারফরম্যান্সটাকে তিনি দেখছেন কেবল দলের প্রয়োজন হিসেবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে পেরেই খুশি হাফিজ, ‘দলের প্রয়োজনের সময় পারফর্ম করতে পেরে আমি খুশি। পাকিস্তান দলের সবাই চেষ্টা করছে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি করতে। প্রতিটি ম্যাচেই আমি চেষ্টা করি শতভাগ দিতে এবং পাকিস্তানের সম্মানের জন্য খেলতে।’