করোনার কারণে অনেক ফুটবলারই এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন। ফুটবলারদের জন্য এ সময়টা খুব কঠিন যাচ্ছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাই হিমশিম খাচ্ছেন। আর যুব ফুটবলারদের খবর কে রাখে। তারপরও বাফুফে যুব ফুটবলারদের বিশেষ করে যারা এএফসি কাপের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলেছে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে। অনলাইনে এ আয়োজন করা হয়েছে। করোনার কারণে এভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সের খেলোয়াড়দের।
৬৯ জন ফুটবলারের একটা তালিকা করে হোয়াটসঅ্যাস গ্রুপ করা হয়েছে। এই ফুটবলারদের অনলাইনে হোমওয়ার্ক দেওয়া হচ্ছে। পরশু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলারদের এবং গতকাল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের নিয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এ ফুটবলারদের নিয়ে এএফসির যেসব খেলা রয়েছে সেখানে দল পাঠাবে বাফুফে।
আগামী বছর ২০২১ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে এএফসির দুটি খেলা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি হচ্ছে না। এখন সেটা পিছিয়ে গিয়ে আগামী ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হবে। বাফুফে দেখছে খেলা পেছানোর কারণে যদি ফুটবলাররা অলস সময় কাটায় তাহলে মাঠে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যাবে। যুব ফুটবলারদের চাঙ্গা রাখতে বাফুফে তাই জানিয়ে দিয়েছে কীভাবে নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে হবে। হোমওয়ার্ক দিয়েই শেষ নয়। কতোটুকু অনুসরণ করছে, উন্নতি হচ্ছে কিনা সব কিছুরই একটা জবাব দিতে হবে খেলোয়াড়দের। ভিডিও ফুটেজও দেখাতে হবে।
বাফুফে জানিয়েছে, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০। ২০২১ সালের খেলাটা ২০২২ সালে হবে তাই খেলোয়াড়দের বয়সটাও বাড়বে। বাফুফে চেয়েছে দুটি বয়সসীমার খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখতে। অনলাইনে খেলোয়াড়দের আদ্যোপান্ত জেনে নিয়ে ইংলিশ কোচ জেমি বলে দিয়েছেন কার কী কাজ। জেমি থাকলেও এ প্রশিক্ষণের মূল দায়িত্ব পালন করবেন জেমির স্বদেশি এবং তারই সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট হোয়াটকিস। স্টুয়ার্টের দায়িত্ব পড়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের গড়ে তোলা। কীভাবে তিনি কাজ করবেন তা নিয়েও একটা পরিকল্পনা দিয়েছেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পলস্মলি এবং ন্যাশনাল হিমস কমিটির কো-চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল। তাদের চাওয়াগুলো জেমি এবং স্টুয়ার্ট বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়ও এদের সঙ্গে কাজ করছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার, ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডিফেন্ডার পারভেজ বাবু। বাফুফে জানিয়েছে, গত তিন বছর যেসব বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছেন তাদের মধ্য থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সের ৪২ জন এবং অনূর্ধ্ব-২০ বয়সের ২৭ জন ফুটবলার বাছাই করা হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন এভাবে প্রশিক্ষণ চলবে।
