ক্ষুব্ধ ছেলের সঙ্গে ইন্টার্ন ডাক্তারদের হাতাহাতি পরে পুলিশে সোপর্দ

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪০

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিনা চিকিত্সায় পারুল বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিত্সক ও রোগীর স্বজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে ৪৬ নং ওয়ার্ডে সংঘটিত এই ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিত্সকরা একজোট হয়ে ঐ নারীর ছেলে রাকিবুল হক লিটনকে মারধর করেন। এরপর মায়ের মরদেহ আটকে রেখে ছেলে রাকিবুলকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ইন্টার্ন চিকিত্সকেরা। এর আগে ছেলে রাকিবুলকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন তারা এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণও করেন।

মৃত পারুল বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আটরশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইসাহাক আলীর স্ত্রী। ঘটনার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে স্ত্রীর মরদেহ রামেক হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নেন ইসাহাক আলী।

ইসাহাক আলী জানান, তার স্ত্রী পারুল বেগম ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বুধবার সকালে প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তার মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। সকাল ৭টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এরপর ৮টার দিকে রোগীকে পাঠানো হয় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তখন কোনো চিকিত্সক ছিলেন না। রোগী বেশ কিছুক্ষণ মেঝেতেই পড়ে ছিলেন। আধা ঘণ্টা পর পারুল বেগমকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ঐ সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিত্সক শোভন সাহার কাছে গিয়ে মাকে দেখার অনুরোধ করেন শিক্ষা কর্মকর্তা রাকিবুল হক লিটন। শোভন সাহা তাকে বলেন, তার ডিউটি শেষ। পরের চিকিত্সক এসে দেখবেন। এরপর লিটন যান আরেক ইন্টার্ন চিকিত্সক আব্দুর রহিমের কাছে। তিনিও জানিয়ে দেন, রোগী দেখতে পারবেন না।                 এভাবেই কেটে যায় আধঘণ্টা। এক পর্যায়ে চিকিত্সা ছাড়াই পারুল বেগম মারা যান।

রোগীর অন্য স্বজনরা জানান, চিকিত্সা ছাড়াই মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে রাকিবুল ওয়ার্ডের ভেতরেই উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করছিলেন এবং মায়ের মৃত্যুর জন্য চিকিত্সকদের দোষ দিচ্ছিলেন। এ সময় ইন্টার্ন চিকিত্সক শোভন সাহা ও আব্দুর রহিম এসে রাকিবুলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। এরপর দুই জন সহকর্মীকে ফোন করে ডেকে এনে সবাই মিলে রাকিবুলকে মারধর করেন। পরে পারুল বেগমের মরদেহ আটকে পাহারা বসান ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। দুপুর ১টার পর ইসাহাক আলী লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ ডেকে তার ছেলে রাকিবুলকে রাজপাড়া থানার ওসির কাছে হস্তান্তর করেন ইন্টার্ন চিকিত্সকরা।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিত্সক পরিষদের নেতা মিজান বলেন, পারুল বেগমের ছেলে রাকিবুলের হামলায় ইন্টার্ন ডাক্তার শোভন সাহা ও আব্দুর রহিম আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা পর্যন্ত নিতে হয়েছে।

রাজপাড়া থানার ওসি শাহাদাত্ হোসেন বলেন, ইন্টার্ন চিকিত্সকরা ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে চিকিত্সা বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। পরে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দুপুরে রাকিবুলের বিরুদ্ধে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের মারধরের অভিযোগে রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন থানায় মামলা করেন। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রাকিবুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর পারুল বেগমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।