শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ২১৫ কোটি টাকা নয়ছয়

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূতভাবে ২১৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৩ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই টাকা নিয়েছে। ২০০৯-২০১০ থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৯৯০টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্তের নামে অবৈধভাবে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। উত্তোলিত টাকা আদায়ে এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করার জন্য কমিটি জোর তাগিদ দিয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘটনা আরো বিরাট। যে অনিয়ম ধরা পড়েছে এটা তো খুবই সামান্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থা। এজন্য কমিটির পক্ষ থেকে মহাহিসাব নিরীক্ষককে আরো ব্যাপকভাবে এবং গভীরে গিয়ে নিরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পুরো মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদন্তের জন্যও আমরা বলেছি।’ তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিবেদনে দেখলাম মাউশির অধীনে আট শতাধিক শিক্ষক ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পেও সাংঘাতিক অবস্থা। এসব আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে বলেছি।’গতকালের বৈঠকে করোনাকালে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হালচাল নিয়েও আলোচনা হয়। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, করোনার অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘরে বসে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। কয়েক মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে আসবাবপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতার অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। লোহার জিনিসপত্রে মরিচা ধরছে।

অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, এ কারণে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আমরা বলেছি—শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে শতভাগ উপস্থিত থাকতে হবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার কিংবা উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে সেগুলো সঠিকভাবে ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আলী আশরাফের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুজিবুল হক, গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও আব্দুল মান্নান অংশ নেন। বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবদ্বয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইএমইডির অতিরিক্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—বৈঠকে চলতি একাদশ সংসদে প্রথম অধিবেশন থেকে সর্বশেষ অধিবেশন পর্যন্ত সংসদের ফ্লোরে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদ্বয় কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের বিবরণ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তদারকি বৃদ্ধির জন্য কমিটি ইউজিসিকে সুপারিশ করেছে। কমিটি সভাপতি আলী আশরাফ বলেন, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চ হারে ভর্তি, টিউশন ও সেমিস্টার ফি নিয়ে থাকে। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশই নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানসম্পন্ন শিক্ষকও নেই। ইউজিসিকে এসব দেখার জন্য কমিটি পরামর্শ দিয়েছে।