দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত দুটি বইয়ের গ্রন্থস্বত্ব ও মেধাস্বত্ব জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুুধবার এ আদেশ দেন।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুর নামে প্রকাশিত দুটি বইয়ের গ্রন্থস্বত্ব ও মেধাস্বত্ব রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জার্নি মাল্টিমিডিয়ার প্রধান নির্বাহী নাজমুল হোসেন এবং তার স্ত্রী শারমিন সুলতানাকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগটি অনেক প্রেস্টিজিয়াস ব্যাপার। এ রকম একটা জায়গায় যদি কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকে তাহলে এটা পুরোপুরি খোলাসা হওয়া জরুরি। এজন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনকোয়ারি চেয়েছিলাম। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘২০ কোটি টাকার বই দুর্নীতি, তিনটি বইয়ের মেধাস্বত্ব চুরি করেছেন সাংবাদিক নাজমুল!’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুজিববর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য যে আটটি বই কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে তার মধ্যে তিনটি বই নিয়েই জালিয়াতি করেছেন নাজমুল হোসেন। ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ এবং ‘৩০৫৩ দিন’ বই দুটির পাশাপাশি অধ্যাপক নাসরিন আহমদ সম্পাদিত ‘অমর শেখ রাসেল’ বইটিরও মেধাস্বত্ব চুরি করে মোটা অঙ্কের টাকায় সেগুলো বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ‘জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড’ ও ‘স্বাধীকা পাবলিশার্স’ নামে দুটি প্রকাশনা সংস্থার মালিক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে। যদিও নাজমুল দাবি করছেন, যা কিছু হয়েছে তা বিধি মোতাবেকই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিটটি করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।
