মনপুরায় মেঘনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৩

মনপুরায় মেঘনার অব্যাহত ভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সড়কসহ জনপদ। মেঘনার তীব্র স্রোতে চারদিক থেকে ভেঙে কেবলই ছোট হয়ে আসছে। গত কয়েক বছরে ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ এখন নিঃস্ব। বেড়ির ঢালে জেগে ওঠা কলাতলী চর, কাজীর চরে আশ্রয় নিয়েছে। কয়েক বছরে মেঘনার ভাঙনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মসজিদ, মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হাজীর হাট ইউনিয়ন এখন তীব্র ভাঙনের কবলে। হাজীর হাট ইউনিয়নের নাইবের হাট, সোনার চর গ্রামের অর্ধাংশ, চরঞ্জান, দাসের হাট প্রায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে হাজীর হাটের আ. লতিফ ভুঁইয়া বাড়িসংলগ্ন পশ্চিম পাশে পাকা বেড়িবাঁধ, দাসের হাটের কালির টেকসংলগ্ন পাকা বেড়িবাঁধ। মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড অর্ধাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সোনার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের হুমকির মুখে। যে কোনো সময় স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

মনপুরা ইউনিয়নের উত্তর মাথা দিয়ে স্থায়ী ব্লক ফালানোর ফলে ভাঙন রোধ হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, সীতাকুন্ড, ঈশ্বরগঞ্জ মৌজার পূর্বাংশে অধিকাংশ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মনপুরা ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত স্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্রুত নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন ভাঙনকবলিত এলাকার হাজারো মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে মনপুরা। মেঘনার ভাঙন রোধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি শহর রক্ষাবাঁধ প্রকল্প তৈরি করে ব্লক ও ড্যাম্পিং ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর রহমতে মনপুরার উত্তর মাথা ভাঙন রোধ হয়েছে। এছাড়াও ভাঙন রোধের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। মেঘনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মনপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দুই-একটি জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে।