টইটম্বুর হাওরে দ্বীপের মতো গ্রাম!

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৬

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো হাওরবেষ্টিত। বর্ষায় এক একটি গ্রাম মনে হয় এক একটি ভাসমান দ্বীপ। ছবির মতো গ্রামগুলোতে রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

গত সোমবার সরেজমিনে নিকলীর হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরের পানি, হাওরের মাটি যেন প্রকৃতির এক অকৃপণ দান। শুকনা মৌসুমে হাওরের মাটিতে যেমন ফলে সোনালি ধান তেমনি বর্ষায় হাওরের ভাসান পানিতে পাওয়া যায় রুপালি মাছ। নিকলী উপজেলার মানুষদের বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে দুলতে দুলতে জেলেরা যায় হাওরে মাছ ধরতে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা লঞ্চে চড়ে মাইক বাজিয়ে বর-কনে শ্বশুর বাড়ি যায় বিয়ে করতে। হাওরের মানুষের কর্মময় বছরের শুরু হয় বর্ষা শেষে কার্তিক মাসে। পুরো শীতের সময় মানুষ থাকে কর্মব্যস্ত। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে থাকে ধান কাটার ধুম। ঐ ফসল ঘরে তুলতেই পানি এসে যায়। বন্যায় বছরের একমাত্র বোরো ধানের ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ তুলিপ বলেন, বর্ষায় আমরা পানিতে ভাসি। যখন আফাল (বাতাস) আসে বড় বড় ঢেউ এসে গ্রামে আছড়ে পড়ে, তখন গ্রাম রক্ষায় দিন-রাত পানিতে নেমে থাকতে হয়।

নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কারার মাহমুদা পারভীন জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশাল জলরাশি দেখে আমরা পুলকিত হয়েছি। নিকলী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নিকলীর হাওরে বর্ষায় জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে জাল ফেলে যেভাবে মাছ ধরে তা দেখে ভয় হয়। তবু তারা জীবিকার জন্য এভাবে চলে আসছে। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না জানান, হাওরের গ্রামগুলো অপার সুন্দরের লীলাভূমি। হাওরের বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে জমি রক্ষা পাবে, আয় বৃদ্ধি পাবে ও সব নাগরিক সুবিধা পাবে। সবকিছু মিলিয়ে সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে।