চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সার্কিট হাউজের সামনে শিশু পার্কটি আর থাকছে না। এটি সরিয়ে নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এক সময় দীর্ঘদিন ধরে এই খোলা চত্ব্বরটি চট্টগ্রামের জনসাধারণের কাছে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান হিসেবে আদৃত ছিল। বিকাল থেকে রাত অবধি এখানে জনসাধারণের নির্মল বিনোদনের জনসমাগম ঘটত। অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর সার্কিট হাউজের সামনের এই চত্বরটির সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে। এই সার্কিট হাউজটি কালের নিরব সাক্ষী। এর সামনের চত্বরটি ইজারা দিয়ে শিশু পার্ক গড়ে তোলার পর সার্কিট হাউজের নান্দনিক সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হয়। এই শিশু পার্ক তৈরির সময় থেকে চট্টগ্রামের জনসাধারণ বিরোধিতা করে আসছিল। কিন্তু জনসাধারণের ঐ ইচ্ছার কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন নগরীর সুশীল সমাজ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই পার্কটি তুলে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু ঐ সময় পার্কের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকায় পার্কটি তুলে দেওয়া যায়নি। এদিকে ২০১৯ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে ১৫ বছরের জন্য এই স্থানটি ইজারা প্রদান করা হলে জনসাধারণের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১৮০ দিনের জন্য প্রশাসক নিযুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আলোকে নবনিযুক্ত প্রশাসক স্থানটি শিশু পার্ক মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এখানে চসিকের উদ্যোগে আগের সেই খোলা সবুজ চত্বর ফিরিয়ে আনা হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। অবশ্য এই স্থানটি যারা ইজারা নিয়েছিল তাদেরকে নগরীর পাহাড়তলী কিংবা খুলশী এলাকায় বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে শিশু পার্ক নির্মাণ করার জন্য বলা হবে বলেও করপোরেশন সূত্রে জানা যায়।
এ ব্যাপারে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, সার্কিট হাউজ চত্বরটিকে আবারও উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণে পরিণত করা হবে। এক দিকে সার্কিট হাউজ ভবনটি ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ঘটনার কালের সাক্ষী। তার ওপর সার্কিট হাউজ চত্ব্বরটিও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু। এই স্থানটি থেকে শিশু পার্ক সরিয়ে নেওয়া হলে চট্টগ্রামের ইতিহাসের মুছে যাওয়া দৃশ্যমান সাক্ষী আবারও উন্মোচিত হবে।
