ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগ ডে নিষিদ্ধ, কেন নিষিদ্ধ, কীভাবে নিষিদ্ধ কিংবা র্যাগ ডে নিষিদ্ধ করার পর শিক্ষার্থীরা কোন নিয়ম বা প্রথায় শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে তার কোনো উত্তর জানা নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো। এসব জানা নেই একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এমনকি দুই উপ-উপাচার্যেরও। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটি সবাই জানে। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাগ ডে পালন নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। ঐ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাগ ডেকে ‘অমানবিক, নিষ্ঠুর ও নীতিবহির্ভূত উত্সব আয়োজন’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
এদিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ১৭ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর। ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের র্যাগ ডে নিষিদ্ধ সংক্রান্ত তথ্যটি অসাবধানতাবশত ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলা হয়, র্যাগ ডে পালনের নামে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে অমানবিক, অসৌজন্যমূলক ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো আচরণ যাতে সংঘটিত না হয়, তার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। ‘শিক্ষা সমাপনী’, গ্র্যাজুয়েশন উত্সব পালনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠান/ উত্সব/ বর্ণাঢ্য র্যালি ইত্যাদি আয়োজনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সেজন্য কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কলা অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিনরা সদস্য এবং সদস্যসচিব থাকবেন প্রক্টর।
এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, র্যাগ ডে শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম একটি আনন্দের দিন। র্যাগ ডেকে অমানবিক, নিষ্ঠুর বিশেষণ দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের অমানবিক কার্যক্রম, গেস্টরুম, গণরুম এসব নীতিবহির্ভূত না, কেবল শিক্ষার্থীদের উত্সবই অমানবিক, নিষ্ঠুর ও নীতিবহির্ভূত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, র্যাগ শব্দের অর্থ জংলি, বন্য, অবারিত। হিংস্র ও অমানবিক কোনো কাজ শিক্ষা সমাপনীতে করা যাবে না। শিক্ষা সমাপনী উত্সবকে কী নামে ডাকা হবে এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, র্যাগ ডের পরিবর্তে শিক্ষা সমাপনী, গ্র্যাজুয়েশন সেরিমোনি, রিসিপশান ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা যাবে। নিজ নিজ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে ‘টেক কেয়ার’ করবে। আগে ক্যাম্পাসে যে র্যাগ ডে হতো, সেটা চলতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, র্যাগ ডে কেন নিষিদ্ধ করা হলো এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হঠাত্ এ প্রস্তাব উত্থাপনের পর কিছু শিক্ষক সমর্থন দিলে এটি পাশ হয়ে যায়। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ভালো বলতে পারবেন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ জানান, আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এসব বিষয়ে উপাচার্য নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে যান এবং প্রেস রিলিজ দিয়ে চমক দেখানোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
