পাটশিল্পের ধ্বংস সাধন নয়, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল আধুনিকায়ন এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এটিকে লাভজনক করার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকটি বাম দলের নেতা ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। পাটকলসমূহ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পাট, পাটচাষি ও পাটশিল্পকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পাট-সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত পরামর্শসভায় তারা এ আহ্বান জানান।
শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও শ্রমিকনেতা কামরুল আহসানের পরিচালনায় সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বন্ধ পাটকলসমূহ পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্কপ ও চীনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারকে সংলাপ ডাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি জোট সরকার আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দিয়েছে, যা দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানে পাটশিল্প রক্ষার জন্য যে সংগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে, তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, পাট চাষ ও পাটশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য। দেশের প্রায় ৫০ লাখ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাট চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও পাটজাতীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও বাণিজ্যের সঙ্গে প্রায় ৪ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। পাটশিল্প ধ্বংসসাধন নয়, আধুনিকায়ন করতে হবে।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাট থেকে ২০১৯-২০২০ বছরে ৮ মশমিক ১ শতাংশ রপ্তানি আয় বেড়েছে। ইজারা দিয়ে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে লুটপাট হবে। অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আমরা পাটশিল্পের একটা নবজীবন চাই। এই নতুন জীবন গড়ার ভিত্তি হলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের যে বর্ধিত চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে সেটাকে কাজে লাগানো এবং নতুন যন্ত্রপাতি দিয়ে কারখানাগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে উত্পাদন বৃদ্ধি করা।
ড. বিনায়ক সেন বলেন, সমতামুখী সমাজে শ্রমিকদের বঞ্চিত করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাটশিল্প রক্ষার আন্দোলন শুধু শ্রমিকদের নয়, এটা জাতীয় ইস্যু। সভার সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান টেকনোলজি দিয়ে পাটশিল্প চালানো সম্ভব নয়। হিসাব-নিকাষ করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের কাছে দিয়েছিলাম।’
