যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রোচেস্টারে গত মার্চ মাসে কৃষ্ণাঙ্গ ড্যানিয়েক প্রুডকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে সাত মার্কিন পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন রোচেস্টারের মেয়র লাভলি ওয়ারেন।
বরখাস্ত ঘোষণা করার সময় লাভলি ওয়ারেন আরো বলেন, সুসংহত বর্ণবাদই এই মৃত্যুর কারণ। জানা গেছে, বরখাস্ত হলেও বরখাস্ত হওয়া ওই সাত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের বেতন-ভাতা পাবেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মলেনে ড্যানিয়েল প্রুডের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ছিলেন। গত ২৩ মার্চ হঠাৎ নগ্ন হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন ৪১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে ফোন করা হয়। পুলিশ এসে ড্যানিয়েলকে হাতকড়া পরিয়ে দীর্ঘ সময় ফুটপাতে বসিয়ে রাখে। ড্যানিয়েল এর প্রতিবাদ করতেই তখন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ তার মাথায় সাদা কাপড়ের ঢাকনা পরিয়ে দেয় যাতে করোনা সংকটের মধ্যে সে থুতু ছিটাতে না পারে। এরপর তার মুখ রাস্তায় চেপে ধরে রাখে। এর ফলে শ্বাস আটকে জ্ঞান হারান ড্যানিয়েল। হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। ৩০ মার্চ লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার পর মারা যান ড্যানিয়েল প্রুড।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হেফাজতে থাকা আর এক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকেও গত মে মাসে গলায় হাঁটুর চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করেছিল পুলিশ। যার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন। বছর ৪৬-এর ওই ব্যক্তি ছিলেন নিরস্ত্র। মিনিয়াপোলিস শহরের একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্তা হাঁটু গেড়ে বসে তার গলার ওপর চাপ দেওয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্লয়েড।
সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই আগস্টের শেষ দিকে কেনোশা শহরে জ্যাকব ব্লেক পুলিশি বর্বরতার শিকার হয়। তিনিও কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। তিন সন্তানের চোখের সামনে বিনা অপরাধে পুলিশ তাঁকে পরপর সাতটা গুলি করে। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে তার শিরদাঁড়া টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অস্ত্রোপচার হয়েছে। আছেন হাসপাতালেই। কিন্তু, মেরুদণ্ড সোজা করে আর দাঁড়াতে পারবেন না কেনোশার এই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। তার আইনজীবী জানিয়েই দিয়েছেন, জ্যাকব ব্লেক পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন। যদি ভবিষ্যতে আবার স্বাভাবিক হাঁটতে পারেন, সেটা হবে অঘটন! এছাড়া গত সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ডিজন কিজ্জি নামের আরেক কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
ইত্তেফাক/এআর
