চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২০

নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার

 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩২। যখন মানুষের গড় আয়ু ৪৫ বছর ছিল তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর; আর গড় আয়ু ৫০ বছর হওয়ার পর তা বাড়িয়ে করা হয় ৩০। কিন্তু বর্তমানে গড় আয়ু ৭২ বছর হলেও বাড়েনি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা। যেহেতু গড় আয়ু ৭২, তাই সার্বিক বিচারে অবসরের বয়স বাড়ানোও প্রয়োজন। মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের শ্রমবাজার হবে আরো সমৃদ্ধ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকরিতে প্রবেশ এবং অবসরের বয়স একেক রকম। প্রত্যেক দেশের অবস্থা বিবেচনা করে এটা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উত্তর আমেরিকায় চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা ৫৯ বছর। ভারতে ৩৫। চাকরির আবেদনের বয়সসীমা কম থাকায় শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় চাকরির পড়াশোনা। স্নাতক ৩ বছর এবং স্নাতক সম্মানের মেয়াদ ৪ বছর। যার ফলে শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে এক বছর বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। ওপরের স্তরে শিক্ষা এক বছর বাড়লেও আগের মতোই রয়ে গেছে আবেদনের মেয়াদ। ১৬ বছরে মাধ্যমিক স্তর পরিপূর্ণ করে ১৮ বছরে শেষ হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এবং ২২ বছর বয়সে স্নাতক স্তর অতিক্রম করে ২৩ বছরে স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় লাগছে অনেক বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ হলে চাকরির জন্য ৭ বছর চেষ্টা করতে পারতেন প্রার্থীরা। কিন্তু শিক্ষা স্তরের বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২৫ থেকে ২৬ বছর চলে যাচ্ছে শিক্ষাজীবন থেকে। নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে সেদিকে সরকারের খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। 

দিনদিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। একথা স্বীকার করতে হবে যে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রতি বেশ আন্তরিক। কিন্তু জনবহুল এদেশে কারিগরি শিক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করে যুবসমাজকে শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু গড় আয়ু বেড়েছে তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে শ্রমবাজারে সুফল আসবে একথা বলা যায়। যে সংখ্যক যুবক শিক্ষাগ্রহণ শেষে বেরুচ্ছে সে তুলনায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। আর বারবার চেষ্টা করতে আবেদনের বয়স হারাচ্ছে চাকরিপ্রত্যাশীরা। চাকরিতে প্রবেশের সময় বাড়ালে যুব সম্প্রদায় আরো কিছুদিন চাকরির প্রস্তুতি নিলে পাঠ্যাভ্যাসের মধ্যে থাকতে পারবে। প্রবেশের বয়স ৩৫ করা হলে এবং অবসরের বয়স ৬০ করা হলে একজন চাকরিজীবী স্বাভাবিকভাবেই চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ করতে পারবেন।

একটি দেশের উন্নতির প্রধান উপায় তারুণ্যের শক্তি। এ শক্তিকে কাজে লাগানোর একটি ধাপ হলো চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো। আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে—বয়স বাড়ানো মানেই চাকরি দেওয়া নয়। চাকরির বাজারে প্রবেশের চেষ্টাকে আরো সময় দেওয়া এবং যুবশক্তিকে শ্রমবাজারে অর্ন্তভুক্ত করা। এতে করে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। সার্বিক দিক বিবেচনায় পৃথিবী যে কঠিন সময় পার করছে এ সমস্যা মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের উচিত অন্তত চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া।

ময়মনসিংহ