বেহাল রাস্তা দিয়ে নিত্য যাতায়াত

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৬

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

গ্রামের নাম ঘোড়ামারা। দক্ষিণ প্রান্তে ঘোড়ামারা খাল। পূর্ব প্রান্তে ঘোড়ামারাদহ। উত্তর প্রান্তে নদীবন্দর ভেঙ্গুলা। গ্রামে সাড়ে ৩ হাজার জনবসতি। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার দুরবস্থায় নিদারুণ ভোগান্তি তাদের। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, এটি গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের আড়াইশ বছরের পুরোনো গ্রাম। প্রাচীন নাম ছিল সমেশপুর। ব্রিটিশ রাজত্বে নীলচাষ করাতে স্থানীয়দের দিয়ে গ্রামের জঙ্গল সাফ করান নীলকররা। গ্রামের খাল ও কাঁচা রাস্তা পার হতে নীলকরের ঘোড়া কাদায় আটকে মারা যেত। এ থেকে সমেশপুরের নাম হয়ে যায় ঘোড়ামারা। খালের নাম ঘোড়ামারা খাল। আর গ্রামের ঝিনাই নদীর গভীর অংশের নামকরণ হয় ঘোড়ামারাদহ। গ্রামের অপর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন জানান, নীলকররা অনেক আগেই চলে গেছে। পাকিস্তানী উপনিবেশিক শাসনের ২৪ বছর গেছে। এখন স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৯ বছর। কিন্তু ঘোড়ামারা গ্রামে ঘোড়া আটকে যাওয়া সেই প্রাচীন রাস্তা এখনো বেহাল রয়ে গেছে। এখনো ঘোড়ার গাড়ি উলটে দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামের শামসুজ্জামান লাল জানান, দুই কিলো কাঁচা রাস্তায় কয়েক বছরে এক কোদাল মাটিও পড়েনি। বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়। শুকনোয় ভাঙাচোরা সেই রাস্তায় রিকশাভ্যান তো দূরের কথা পায়ে চলাও দায়। গ্রামে বেকার যুবকদের গোটাপাঁচেক মুরগির খামার রয়েছে। সেসবের খাবার মাথায় করে নিতে হয়। স্কুলশিক্ষক ইমরুল হাসান জানান, রাস্তার দুরবস্থার দরুন গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেনি। পাশের ভেঙ্গুলা গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল, ডিগ্রি কলেজ, ফাজিল মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, বাজার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ভেঙ্গুলার সঙ্গে টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার হাইওয়ে যুক্ত। গ্রামবাসীকে এসব নাগরিক সুবিধা পেতে প্রতিনিয়ত কর্দমাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত রাস্তা মাড়াতে হয়। ইউপি মেম্বার মনোয়ারা বেগম জানান, বর্ষায় খালে বাঁশের সাঁকো বসে। তাতে পা পিছলে স্কুলগামী শিশু ও বৃদ্ধরা আহত হয়। রাস্তা পাকাকরণ তো দূরের কথা খালে কালভার্ট পর্যন্ত হচ্ছে না। চতুর্দিকে হাইওয়ে। আর এ গ্রাম যেন বাতির নিচে অন্ধকার! ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, ঘোড়ামারার এ প্রাচীন রাস্তার দুরবস্থা প্রমাণ করে সড়ক পাকাকরণে সুষম বণ্টন হয়নি। গোপালপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, স্থানীয় এমপি ছোট মনির রাস্তাটি পাকাকরণের সুপারিশ করেছেন।  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।