ঝালকাঠি শেখেরহাট সড়ক
মো. শফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি শেখেরহাট সড়কে গাবখান নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পাইলিংয়ের নামে লাখ লাখ টাকা অপচয় ও লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পরপর দুই বছর বাঁশ দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই পাইলিংয়ের নামে পছন্দনীয় ঠিকাদারের মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়। এতে ভাঙন প্রতিরোধের নামে লাভবান হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কোটেশনের মাধ্যমে গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের আগস্ট মাসে এই সড়কের সাতটি স্পটে বাঁশ বল্লি দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করা হয়। ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই জন ঠিকাদারের মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এক বছর যেতে না যেতেই চলতি অর্থ বছরের জুলাই মাসে একই পদ্ধতিতে আরো ৭০ লাখ ৯ হাজার টাকার পাইলিংয়ের কাজ করা হয়। এবার ১২টি স্পটে পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সড়কটির ভাঙন ঠেকাতে গত বছর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের ভিতরে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। যদিও ক’মাসের মধ্যেই একাধিক স্পটে জিও ব্যাগ ধসে পানিতে পড়ে যায়। তখন এ কাজের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। চলতি বছরে টাকার পরিমাণ ৭০ লাখ হলেও এবার আরো বড় শুভংকরের ফাঁকি দেখা যায়। অত্যন্ত নিম্নমানের কিছু বাঁশ ও ড্রাম দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করা হলেও ভিতরে সিনথেটিক বালুর ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ওপরে এক লেয়ার জিও ব্যাগ দিয়ে নিচে বালুর ব্যাগ ঢেকে দেওয়া হয়। তাই এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে এসব জিও ব্যাগ তুলে ফেলে দিচ্ছে। এ সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, প্রতি বছর এভাবে পাইলিংয়ের নামে সরকারি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। তাদের দাবি স্থায়ী কিছু করার। শেখেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সুরুজ বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে বাঁশ বল্লির পাইলিং হাস্যকর বিষয়। এটা কোনোভাবেই কার্যকর হবে না। এখানে ব্লক পাইলিং হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা যেত।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ বলেই জরুরি ভিত্তিতে ডিপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে বাঁশ, জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা দিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। এই সড়কের ৩.৭০ কিলোমিটার স্থায়ী পাইলিং কাজের জন্য ১৬০ কোটি টাকার ব্লক ডিপিপি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হবে।
