গাংনীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে আশা জাগাচ্ছে পান

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৩

গাংনীতে অর্থকরী ফসল হিসাবে পান চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। তামাক চাষ ছেড়ে বর্তমানে পান চাষে ঝুঁকছেন তারা। এক সময় দেখা না গেলেও বর্তমানে প্রায় সব গ্রামেই কমবেশী পান চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে পানের ব্যাপক চাহিদা থাকায় অন্যান্য ফসলের ন্যায় পান চাষে লাভবান হচ্ছে গাংনীর কৃষক। তাই অসংখ্য পানের বরজ এখন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোভা পাচ্ছে। ফলে গাংনীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে আশা জাগাচ্ছে পান। একসময় ধারণা ছিল শুধু গাংনীর মাটি পান চাষের উপযুক্ত নয়। কিন্তু সে ধারণা ভেঙে বর্তমানে গাংনীতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পান চাষের ব্যাপকতা বেড়েছে।

উপজেলার কচুইখালী গ্রামের সফল চাষি ইমাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বেশ কয়েক বছর ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পান চাষ করে আসছি। পান চাষে লাভবান হয়েছি। এ বছর আমি সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে পান চাষ করে এযাবত্ প্রায় ২ লাখ টাকার পান বিক্রি করেছি। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে আরো ২ লাখ টাকা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’ তিনি বলেন, ‘পান চাষ করে আমি আমার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলেকে শিক্ষিত করে চাকরি, মেজো ছেলে ভার্সিটিতে ও ছোট ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছি। পান চাষ করে ইতোমধ্যে বাড়ি ও কিছু জমি ক্রয় করেছি। বর্তমানে আমার দেখাদেখি এই এলাকার অনেকেই পানের বরজ করেছেন।’ পান  চাষি ইমাদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘একসময় প্রশিক্ষণ না নিয়ে চাষ করতাম, বর্তমানে কৃষি অফিসারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষ করছি।’

গাংনী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, পান চাষে কিছু রোগবালাই যেমন গোড়া পচা, লতা পচা, ঢলে পড়া, পাতা পচা, পাতায় ষ্পট ইত্যাদি দেখা যায়। এসব ছত্রাক নষ্ট বা প্রতিকারের জন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়। পাটকাঠি, খড়, ধানের  ছন,  বাঁশের  খুঁটি বা শলা ভালোভাবে শুকিয়ে দ্রবণে চুবিয়ে জীবাণুমুক্ত না করলে পান চাষে ক্ষতি হয়।

বৃহস্পতিবার ধানখোলা ইউপির বিভিন্ন এলাকায় পান বরজ পরিদর্শন করতে আসা উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম শাহাবউদ্দীন আহমেদ বলেন, গাংনীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ‘নিরাপদ পান উত্পাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চাহিদা থাকায় আমরা ‘মিঠা পান’ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বছর গাংনীতে ৫০ হেক্টর জমিতে পানের বরজ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এখানে পান চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।