কালাই উপজেলায় বিদেশি গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রঙের তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। উপজেলার বহুতিদর্গাপাড়ার বর্গাচাষি এনামুল হক ৩৩ শতক জমিতে এ তরমুজের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন। বর্তমানে মাচায় ঝুলতে থাকা এসব তরমুজ স্থানীয়দের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালাই সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতিদর্গাপাড়া। সেখানে এনামুল হক বন্যামুক্ত ও উঁচু জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন।
এনামুল হক বলেন, ৩৩ শতক জমি বর্গা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে ২২টি বেড করে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখি। এরপর জুনের ২২ তারিখে ১৮ ইঞ্চি পর পর বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রঙের তরমুজের বীজ রোপণ করি। বীজ রোপণের ৩৫ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৪০ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তারপর ৭৫ দিনে পরিপক্ব হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের প্রায় ২ হাজার ৪০০ তরমুজ এবং তরমুজ পরিপক্বের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি করা শেষ হবে। ঐ তরমুজ কাটলে ভিতরে লাল ও রসালো আর খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদ। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাজারে এই তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি, দামও ভালো আছে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হবে। এই পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। এতে সবকিছু খরচ বাদ দিয়ে আমার আয় হবে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষক নুরুল মিয়া ও আব্দুল খালেক জানান, এনামুলের তরমুজের ফলন ও স্বাদ ভালো হওয়ায় এখন অনেকেই চাষ করতে তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। তার তরমুজ দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা একনজর দেখতে আসেন। আবার কেউ কেউ তরমুজ কিনছেনও।
উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জেবা বলেন, ঐ তরমুজ নিয়ে এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাছাড়া এলাকাতে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এনামুল হক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।
