চট্টগ্রামে সহস্রাধিক ওয়ার্কশপ গ্যারেজ বিস্ফোরণ-ঝুঁকিতে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫৩

চট্টগ্রামে এক হাজারেরও বেশি ওয়ার্কশপ, দোকান, গ্যারেজ ও ডিপো ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরী এবং সীতাকুন্ড উপজেলার অন্তত ১২ স্থানে গড়ে উঠেছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সীতাকুন্ড উপজেলার উপকূলে ফৌজদারহাট ভাটিয়ারি থেকে কুমিরা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ডকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলি, মাদামবিবিরহাট ও কুমিরায় গড়ে উঠেছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ ও ডিপো নামের প্রতিষ্ঠান।

মহানগরীর যেসব এলাকায় এরকম ঝুঁকিপূর্ণ গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ ও দোকানপাট গড়ে উঠেছে সেগুলো হচ্ছে কদমতলি, ধনিয়ালাপাড়া, অলংকার মোড়, পাহাড়তলি, পোর্ট কানেক্টিং সড়কের আংশিক, আগ্রাবাদ মাদারবাড়ি, মুরাদপুর হাটহাজারি সড়ক, বায়েজিদ সড়ক, অক্সিজেন মোড়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ ও দোকানপাটে এলপিজিসহ নানা দাহ্য পদার্থ ব্যবহূত হয়। সেগুলোর উপস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয় ওয়েল্ডিং মেশিন এবং ইস্পাতের পাত কাটার জন্য গ্যাস-কাটার। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা শ্রমিক তারা বিস্ফোরক-নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত নয়। ফলে প্রায় এক দশকে এসব দোকান, ডিপো ও ওয়ার্কশপে সংঘটিত ছোট বড় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে সীতাকুন্ডের বিভিন্ন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও একই কারণে প্রতিবছর গড়ে ৫/৬টি  সিলিন্ডার ও গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে এ পর্যন্ত প্রাণহানিও ঘটেছে বেশ।

বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা এড়াতে গত প্রায় তিন দশকে সরকার অন্তত ৭টি বিধিমালা প্রণয়ণ করেছে। কিন্তু উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান এসব বিধিমালার ধারে কাছে নেই বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে জানেই না বলে অভিযোগ অধিদপ্তর সূত্রের। ফলে চট্টগ্রামে যে কোনো অসতর্কতায় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তারা বলছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো ইনকনট্রেডে এই অজ্ঞতার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪ শ্রমিক নিহত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিস্ফোরক  অধিদপ্তরের পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, জ্বালানি, দাহ্য গ্যাসিয় পদার্থ, বিষাক্ত পদার্থ ও বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ ব্যবহারে সরকারের ৭টি বিধিমালা বিদ্যমান রয়েছে। যারা যে ধরনের পদার্থ ব্যবহার করবেন তাদেরকে সে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। এমনকি এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরক বা স্পর্শকাতর পদার্থ সঠিকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। অধিদপ্তরের পরিদর্শকগণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। কিন্তু দেখা গেছে এ বিষয়টি বেশির ভাগ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান মানছে না। তারপরও চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি-জরিমানা করছে। তিনি বলেন, অক্সিজেন, এসিটিলিন গ্যাস, নাইট্রোজেন গ্যাস, অ্যামোনিয়া গ্যাস এমনকি এলপিজি ও সিএনজিও যারা ব্যবহার করছে তাদেরকে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিমালা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকার প্রণীত বিধিমালাগুলো হচ্ছে, পেট্রোলিয়াম বিধিমালা-২০১৮, বিস্ফোরক বিধিমালা-২০০৪, এলপিজি বিধিমালা-২০০৪, গ্যাসসিলিন্ডার বিধিমালা-১৯৯১, সিএনজি বিধিমালা-২০০৫, পেশার ভেসেল গ্যাসাভার বিধিমালা-১৯৯৫ এবং পয়জনাস অ্যাক্ট। অধিদপ্তরের জনবল স্বল্পতার জন্য সকল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে সীমাবদ্ধতা আছে। এসব পদার্থ ব্যবহারকারীদের উচিত্ অধিদপ্তরকে অবহিত করে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে ঐসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মী নিয়োগ দেওয়াটাও জরুরি।