তৈরি হবে আশ্রয়কেন্দ্র
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
হাওরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বজ্র নিরোধক যন্ত্র বসানো হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ করা হবে আশ্রয়কেন্দ্র। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বজ পাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, তিনি এ বিষয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সিলেটের হাওরাঞ্চলে বজ্র পাতের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে নিহতের সংখ্যা ছিল ১২। আর সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সাত বছরে শুধু সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ১০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বজ্রপাতে। ২০১৪-২০১৭ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা যান অর্ধশত। শুধু ২০১৮ সালেই ২৫ জন নিহত হন। এটি ছিল এ জেলার এক বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়া ২০১৯ সালে ৯ জন, আর ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। এ নিয়ে সাত বছরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬-এ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে কৃষক, জেলেসহ নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি।
কৃষক, জেলেসহ নিম্ন আয়ের মানুষকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও নিতান্তই পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হতে হয়। তারাই মূলত বজ্রপাতের শিকার হন। সরকার থেকে বজ্রপাতে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এই টাকা যথেষ্ট নয়। বজ্রপাতে একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি হারিয়ে অনেক পরিবারই পথে বসেছে। এদের পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেছেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া প্রতি পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদানের জন্য তিনি উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন, তালিকাও দেওয়া হয়েছে। আগে দেখা যেত বৃষ্টির মৌসুমে হাওরাঞ্চলে কিছু বজ্রপাতের ঘটনা ঘটত।
বৃষ্টির মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা কমে যেত। কিন্তু এখন খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে বজ্রপাতের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যা কৃষক ও হাওরাঞ্চলের নৌপথের যাত্রীদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানান, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের পরিমাণ বেশি। ভারতের খাসিয়া পাহাড় ও মেঘালয় এলাকায় মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত মেঘ জমে থাকে। স্তরীভূত মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে ঐ এলাকার পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতের সংখ্যাও বেশি। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রাজা বলেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে সরকারি উদ্যোগে হাওর পাড়ে তালগাছ লাগানো হয়েছে। কিন্তু ভাটির জনপদে তালগাছের অনেক চারা মরে গেছে। তালগাছ লাগানোর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানোর দরকার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়ও একই সুরে বলেন, প্রাণ রক্ষার জন্য দ্রুত বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন জরুরি।
