স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
যে দিকে চোখ যায় শুধু পাখি আর পাখি। হাজারো শামুক খোল, পানকৌড়ি ও নিশি বক। আরো কত কি! সকাল-সন্ধ্যা, দুপুর সবসময় পাখির কিচিরমিচির শব্দে মনে হতে পারে যেন এক গহিন অরণ্য! কিন্তু বাস্তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাস, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এবং ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এলাকার এমন কোনো গাছ নেই, যেখানে পাখি বাসা বাঁধেনি। শুধু তাই নয়, রাস্তার ডিভাইডারের গাছগুলোতেও বাসা বেঁধেছে শত শত শামুক খোল পাখি। পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছুদিন আগেই ছিল ঐসব পাখির প্রজননের সময়। তাই তারা দলবদ্ধভাবে এসব গাছে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে যেতেই মাথার ওপর দেখা গেল পাখির ব্যস্ততা। কোনোটা ছুটছিল খাবার সংগ্রহ করতে, কোনোটা গাছের ছোট ছোট ডাল ছিঁড়ে আনছে, বাসার পরিধি বাড়াচ্ছে। আবার কোনোটা বাচ্চার মুখে খাবার দিচ্ছে।
ভোরে পূর্ব-দিগন্তে সূর্য উঁকি দিতেই পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙছে রোগী ও স্বজনদের। আবার দিন শেষে সন্ধ্যা নামছে পাখির নীড়ে ফেরার কলতানে। এমন চোখ জুড়ানো ছবি দেখে মন ভরে যাচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবমিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ এ হাসপাতাল চত্বর এখন যেন পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
আগের দিন শুক্রবার বিকালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতলের চত্বর জুড়ে পাখির মেলা। হাসপাতালের ভেতরের গাছপালার চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছে পাখি। এদের অধিকাংশই শামুক খোল, পানকৌড়ি ও নিশি বক প্রজাতির পাখি। রাতদিন তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। পাখি-প্রকৃতি আর মানুষের কোলাহল যেন এখানে মিলেমিশে একাকার।
বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের সভাপতি ও পাখি বিশেষজ্ঞ এস এম ইকবাল বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও রাজশাহী অঞ্চলে খুব বেশিসংখ্যক শামুক খোল চোখে পড়ত না। কিন্তু, এখন অনেক পাখি এই এলাকায় দলবদ্ধভাবে বাস করছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় ও পর্যাপ্ত খাবারের উত্স থাকায় গত সাত থেকে আট বছর ধরে শামুক খোল পাখি এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, আগে শুধু জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এরা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রজননের সময় আসত। তবে এখন এরা দেশের আবাসিক পাখি। রাজশাহীর ‘সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফে’র প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান বলেন, শামুক খোল পাখি সাত থেকে আট বছর ধরেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় ছিল। সেখানকার কিছু গাছ কেটে ফেলায় পাখিরা এখন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসসহ আশেপাশের এলাকায় প্রজনন করছে। তবে এ বছর এখানে পাখির সংখ্যা বেশি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. নওশাদ আলী বলেন, পাখি শিকার বন্ধে বন্দুক নিয়ে কারো প্রবেশে কঠোর নজরদারি রয়েছে। অনুরূপ তথ্য দিয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, পাখি সুরক্ষায় হাসপাতাল বক্স পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তত্পর রয়েছেন।
