সাতক্ষীরার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৯

জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিবছরই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা।  তলিয়ে যাচ্ছে ঘের, ফসলি জমি ও বাড়িঘর। নিঃস্ব হচ্ছেন লাখো মানুষ। আম্ফানের পরেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জোয়ারের পানিতে আবারও তলিয়ে গেছে আশাশুনি ও শ্যামনগরের উপকূল এলাকা।

কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। ৬০ বছর আগে নির্মিত ৮০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দেড় শতাধিক পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০ বছর আগেই মেয়াদ শেষ হওয়া বেড়িবাঁধগুলো আইলা, সিডর, ফনি, বুলবুল, আম্ফানসহ বিভিন্ন সময়ে সাইক্লোন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ২৩টি পয়েন্ট ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের আমজাদ শেখ জানান, জোয়ারের পানিতে একাকার হয়েছে কপোতাক্ষ আর খোলপেটুয়া নদী। আর এ পানির তোড়ে প্রতিবার ভেঙে যায় দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো। আর বারবার আশ্বাস দেওয়া হয় বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণের। বিগত তিন মাসে ন্যূনতম কোনো কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৮০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ ঝুঁকিপূর্ণ। আম্ফানের তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ ধসে তলিয়ে গিয়েছিল উপকূলীয় এলাকার ২০টি গ্রাম। এছাড়া সম্প্রতি জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে আরো ৩০টি গ্রাম। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-০২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, গত ২ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানে সাতক্ষীরার উপকূলে আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেড়িবাঁধগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বাঁধের মেরামত কাজ চলছিল। এরই মধ্যে গত ১৮/২০ আগস্ট জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অতি বর্ষণে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্বল বাঁধগুলো পুনরায় ভেঙে গেছে। এসব এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন ও বাজেট পেলে বাঁধগুলো নির্মাণ করা হবে।