অনলাইনে শুল্ক আদায় বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে এনবিআর

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক আদায় ব্যবস্থা অনলাইন করার লক্ষ্যে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছিল। তবে ব্যবস্থাটি বাধ্যতামূলক ছিল না। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সিঅ্যান্ডএফ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্তদের সচেতনতার অভাবে এ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধে প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে শুল্ককর পরিশোধে অনিয়মের সুযোগও রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের (মূলত আমদানির ক্ষেত্রে) শুল্ককর অনলাইনে পরিশোধকে বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে এনবিআর। শুরুতে একটি নির্দিষ্ট কাস্টমস হাউজে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শুল্ক স্টেশনেও তা শুরু করতে চায়। সার্বিকভাবে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ দেশের সব আমদানির শুল্ককর এ পদ্ধতিতে আদায় করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, শুরুতে ঢাকার কমলাপুর আইসিডির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ককর পরিশোধে ই-পেমেন্ট পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে শুল্ক বিভাগ। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সংশোধন করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শুল্ক স্টেশনেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করা হবে। পরবর্তীতে তা সব আমদানিকারকের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হবে। ব্যাংকের আরটিজিএসের (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ায় অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এনবিআরের হিসাবে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুল্ক আদায় হয়েছে ৬৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া গেছে ৫ হাজার কোটি টাকার মতো। জানা গেছে, বড় আমদানিকারক কিছু প্রতিষ্ঠানও কেবল এ পদ্ধতিতে পরিশোধ করছে। এর বাইরে বিপুল সংখ্যক আমদানিকারক ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই পরিশোধ করছে। ফলে অনিয়মের সুযোগও রয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম রাজস্ব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, অটোমেশন নিশ্চিত করা গেলে অনেক অনিয়ম কমে যাবে। এ লক্ষ্যে কিছু কার্যক্রমও হাতে নিয়েছেন। তবে গত প্রায় এক দশক ধরে অটোমেশন নিয়ে বহু কথা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ২০১১ সালে কর পরিশোধ পদ্ধতিকে অনলাইনভিত্তিক করতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর গত বছর এসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র ৬ হাজারের মতো করদাতা অনলাইনে কর পরিশোধ করেছেন। অথচ আলোচ্য সময়ে করদাতার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।