সংবাদ সম্মেলনে সাবেক স্বামীসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সন্ত্রাসীদের দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার এক স্কুল শিক্ষিকা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন। এ সময় তার দুই কন্যা তোফা ও তৌসী সঙ্গে ছিল। হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ২০০৭ সালে একই এলাকার মো. রাশেদুল হাসানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামী বিগত কয়েক বছর যাবত্ যৌতুক দেওয়ার জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতে থাকে তাকে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে টাকা দেওয়া হলেও যৌতুকলোভী রাশেদুল তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে করে মদ্যপ স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে ২০১৯ সালে ডিভোর্স দিয়ে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে তার পিতার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। গত ২৩ এপ্রিল সাবেক স্বামী রাশেদুল তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাবু বাহিনীর সদস্যরা তার কর্মস্থলে এসে ২ লাখ টাকা দিতে নানাভাবে হুমকি দেয়। চাঁদা না দেওয়ায় তারা শিক্ষিকার বৃদ্ধ পিতাসহ পরিবারের সব সদস্যের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মিথ্যা মামলা করে। ঐ মামলা পিবিআই তদন্ত করে তা মিথ্যা বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তিনি আরো জানান, গত ১৭ আগস্ট দুপুরে রাশেদুল, বাবু ও তাদের সহযোগীরা দুই শিশুকন্যাসহ তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে টেনেহিঁচড়ে একটি প্রাইভেট কারে তোলার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে শিক্ষিকার ৫ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেওয়াও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এ ঘটনার পর রাশেদুল ও বাবু উলটো তার পিতা, ভাই-ভাবিসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। নির্যাতনের ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করলেও অফিসার ইনচার্জ মামলা রেকর্ড করতে টালবাহানা করছেন ।
জানা গেছে, রাশেদুল ও বাবুর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
