উপকূলে লাগানো হচ্ছে কেওড়াগাছ!

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৮

অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনার সম্ভাবনা

এইচ এম শফিউল ইসলাম, পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা

খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে কেওড়ার ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার চরভরাটি জমিতে ব্যাপকভাবে কেওড়াগাছ লাগানো হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে কেওড়া চাষ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

কেওড়াগাছ মূলত সুন্দরবনকেন্দ্রিক বৃক্ষ হলেও লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় উপকূলীয় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার নদীর চরভরাটি জমিতে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে অন্যান্য প্রজাতির গাছের সঙ্গে কেওড়াগাছের চারা লাগানো হয়। সুন্দরবনসংলগ্ন পাইকগাছা উপজেলার শিবসা, ভদ্রা, মিনহাজ, কড়ুলিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের চরভরাটি জমিতে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রচুর পরিমাণে কেওড়াগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

বাতিখালী বনায়ন সমিতির জি এম এম আজাহারুল ইসলাম জানান, শিবসা নদীর চরে লাগানো কেওড়াগাছে এ বছর প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। কেওড়াফল এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল। কেওড়া চাষ লাভজনক। এসব অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কেওড়া গাছ লাগানো হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এ এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, কেওড়া উপকূলীয় অঞ্চলের অতিপরিচিত একটি ফল। এটি অত্যন্ত লাভজনক গাছ। ফলটির রয়েছে প্রচুর রোগপ্রতিরোধক্ষমতা। কেওড়াফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে বলে জানান পাইকগাছার এমবিবিএস ডা. শেখ শহিদুল্লাহ ও ডা. আজমল হোসেন। তারা বলেন, মানবদেহের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় কেওড়াফল। রক্তে কোলেস্টেরল ও শরীরের চর্বি (ফ্যাট) কমায়। এসময় এলাকার হাট-বাজারগুলোতে কেওড়াফল কিনতে পাওয়া যায়। প্রতি কেজি কেওড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। কেওড়া দ্রুত বর্ধনশীল একটি গাছ। এর গড় উচ্চতা ২০ মিটার। ফাগুনে ফুল ফটে, চৈত্র-বৈশাখে ফল ধরে, আর আষাঢ়-শ্রাবণ ও ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।