গভীর রাতে কাটা হচ্ছে লাউয়াছড়া উদ্যানের গাছ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২০

হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণি, উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে সময়ের পরিক্রমায় লাউয়াছড়া বনের টিলা ক্রমশ ফাঁকা হচ্ছে। গভীর রাতে কেটে নেওয়া হয় বনের গাছ। ফলে হুমকির মুখে লাউয়াছড়া উদ্যানের জীববৈচিত্র্য। কয়েকদিনের ব্যবধানে লাউয়াছড়া বনের দুটি টিলা থেকে চারটি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। বনের টিলা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

লাউয়াছড়া উদ্যানের বাঘমারা ক্যাম্পের সম্মুখে ও মুজিবের উঠনি টিলা ঘুরে দেখা যায় অতিসম্প্রতি কেটে নেওয়া চারটি গাছের গোড়া রয়েছে। বাঘমারা ক্যাম্পের সম্মুখের টিলায় বৃহদাকার দুটি চিকরাশি ও একটি মেহগনি এবং মুজিবের উঠনি টিলায় সম্প্রতি কেটে নেওয়া একটি চিকরাশির গাছের গোড়া দেখা যায়। ফলে বনের গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে বন থেকে এসব গাছ কেটে পাচার করছে। কেটে নেওয়া গাছের খণ্ডাংশ পিকআপ ও ঠেলাগাড়ি যোগে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে।   শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল নেমে রাত ৩টায় একটি সিএনজি- যোগে আসার সময় দেখি লাউয়াছড়ার ভেতরের রাস্তা দিয়ে দুটি ঠেলা যোগে গাছ পাচার হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, দুই-একদিন পর পরই গভীর রাতে এভাবে লাউয়াছড়া বনের বিভিন্ন টিলা থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়। ফলে এই উদ্যানটিতে পুরোনো প্রাকৃতিক গাছগুলো ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

লাউয়াছড়া উদ্যানটি বিরল প্রজাতির প্রাণীর সংমিশ্রণে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করলেও এ বনের গাছ উজাড় হওয়ার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বন। তবে গাছ পাচার বিষয়ে বাঘমারা বনক্যাম্পের প্রহরী মো. আতাউর বলেন, আসলে গাছটি ঝড়ে পড়তে পারে। তাছাড়া কয়েকবছর পূর্বেও যে হারে গাছ চুরি হতো এখন আর তা হয় না। এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গাছ চুরি হওয়ার মতো কোনো সংবাদ পাননি। তবে টিলা থেকে চারটি গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।