মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী আর নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। গত রবিবার থেকে তিনি সেখানে চিকিত্সাধীন ছিলেন। আবু ওসমান চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দুই মেয়ে নাসিমা ওসমান ও ফাওজিয়া ওসমানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানাজা শেষে বিকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আবু ওসমান চৌধুরী সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শহিদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে আবু ওসমান চৌধুরীকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সরকার।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব জানান, শারীরিক অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। আবু ওসমান চৌধুরীর মেয়ে নাসিমা ওসমান জানান, গত সপ্তাহের শনিবার থেকে তিনি খাবার গ্রহণ করছিলেন না, ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই জরুরি ভিত্তিতে রবিবার তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষে তার করোনা শনাক্ত হয়।’
হারুন হাবীব আরো জানান, আবু ওসমান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্মৃতিশক্তিও ক্রমে লোপ পাচ্ছিল তার। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও করোনাকালের আগে তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের বৈঠকে উপস্থিত থাকতেন। যদিও সে সময় তার কথা বলতে কষ্ট হতো।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন।
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আবু ওসমান চৌধুরীর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আবু ওসমানের বীরত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে এ বীর সেনানীর অনবদ্য ভূমিকা সবসময় আমাদের প্রেরণা জোগাবে।
এছাড়া শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ প্রমুখ।
জেপির শোক
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম।
এক বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, মরহুম আবু ওসমান চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং ৮ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার এই অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জুট মিল (বিজেএমসি)-এর চেয়ারম্যান এবং চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিককে হারাল। জেপির নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
