রাজশাহীর সিফাতের স্বামীর সাজা বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করেছে হাইকোর্ট। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ গঠন না করে ওই ধারায় মামলার আসামি সিফাতের স্বামী আসিফ প্রিসলিকে সাজা দেওয়ায় ওই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আসামি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তিন মাসের মধ্যে মামলাটি বিচার শেষ করতে বলা হয়েছে। যদি ওই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করা না যায় তাহলে আসামির জামিন আবেদন বিবেচনা করতে নিম্ন আদালতকে বলা হয়েছে। 

আসামির আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, আসিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচারিক আদালত। কিন্তু এই ধারায় সাজা না দিয়ে তাকে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় সাজা দেন। কিন্তু ৩০৬ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। যার কারণে হাইকোর্ট সাজার রায় বাতিল করে দিয়েছে। 

২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরদিন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাত আত্মহত্যা করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক। দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ সিফাতের স্বামী আসিফ প্রিসলি, আসিফের বাবা মোহাম্মদ রমজান, মা নাজমুন নাহার ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। 

আরো পড়ুন : রিফাত হত্যা: দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ, রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন ১৬ সেপ্টেম্বর

২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে তার স্বামী মোহাম্মদ আসিফ প্রিসলিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। তবে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। পাশাপাশি খালাসপ্রাপ্তদের সাজা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলার বাদি। উভয় আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ রায় দেয়। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ, বাদি পক্ষে এসএম শাহজাহান শুনানি করেন।


ইত্তেফাক/ইউবি