ঝিনাইদহে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ফের চড়েছে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০৭

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে সব ধরনের চাল কেজিপ্রতি তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। এরপর দফায় দফায় চালের দাম বেড়ে চলেছে। মোটা চাল প্রতি কেজি ৩৮ টাকা থেকে ৩৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। সে চাল এখন ৪৩-৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বি আর-২৮ চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪৫ টাকা থেকে ৪৭ টাকা। তা এখন বেড়ে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মিনিকেট ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। তা বেড়ে এখন ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাসমতি চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫৫-৫৬ টাকা। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে চালের দামে নির্দিষ্টতা নেই। একেক বাজারে একেক দামে কেনাবেচা হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলমালিকরা চালের দাম চড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। হাট গোপালপুর বাজারের চালকলমালিক বিকাশ বিশ্বাস জানান, বাজারে ধানের আমদানি কম। দাম চড়ে গেছে। মোটা আউশ ধান প্রতি মণ ১ হাজার টাকা, বি আর-২৮ ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ টাকা, মিনিকেট সাড়ে ১১০০ টাকা ও বাসমতি ১ হাজার ২০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে চালের দাম বেড়েছে বলে তিনি আরো জানান। মোটা চালের দাম বেশি বেড়েছে। চিকন চালের দাম কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা বেড়েছে।

বাজারে খুচরা প্রতি কেজি দেশি মসুরের ডাল ১০০ টাকা, আমদানি করা মসুরের ডাল প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালাই ডাল ১১৫ টাকা ও মুগডাল ১৩০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম লাগাম ছাড়া বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, ওল ৪০ টাকা ও মুখিকচু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পুঁইশাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা ও লাল শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে। নতুন ওঠা বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৫০ টাকা ও ফুলকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঝিনাইদহের হাবিবপুর গ্রামের সবজি চাষি বাবু মণ্ডল জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষতি হয়েছে। এতে উত্পাদন কমে যাওয়ায় দাম চড়ে গেছে। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ফের বাজার মনিটরিং শুরু করা হবে।