হিমেল আহমেদ
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অনেক নারী আজ তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে নিজেদের সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ঘরে বসে নারীদের ই-কমার্সের প্রতি আগ্রহ লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। উদ্দেশ্য যা-ই হোক, করোনার দুঃসময়ে নিজ সংসারে হাত বাড়ানো হোক কিংবা শখের বসে; নারীদের এই অগ্রগতি সত্যিই আনন্দের। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এই ক্ষেত্রে বৃহত্ ভূমিকা পালন করছে, এটা বলাটা অত্যুক্তি হবে না। ঘরে বসেই আমাদের নারীরা জামা কাপড়ে রং কিংবা সুতার কারুকাজ করছে, বিভিন্ন পদের মিষ্টান্ন রান্না করছে, হোমমেড বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করছে। ঘর সাজানোর আকর্ষণীয় শোপিস বানাচ্ছে, যা সবকিছুই তারা সোশ্যাল সাইট, বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে শেয়ার করছে। মানুষ দেখছে, আগ্রহী হচ্ছে, কিনছে। এতে করে নারীরা ই-কমার্সের একটি অন্যতম উত্স সৃষ্টি করে ফেলছে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতকরণে সবার হাতেই আধুনিক সেলফোন রয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আমাদের বিশ্বের সঙ্গে নিমেষেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। করোনার এই দুঃসময়ে মানুষ ঘরে থেকেছে তাই অবসরে সেলফোন ও ইন্টারনেটে সময় কাটিয়েছে। বর্তমানে তো ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জন্য দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ই-কমার্সকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে আমাদের দেশে ফেসবুকের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে। জরিপ অনুযায়ী দেশে ফেসবুক ব্যবহার করে, এমন লোকের সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটির বেশি। কেনাকাটার ক্ষেত্রেও বেড়েছে ফেসবুক-নির্ভরতা। পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজে কেনাকাটা চলছে। এর মধ্যে ১২ হাজার পেজ পরিচালনা করছেন নারীরা। ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে স্বল্প পুঁজিতেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন নারীরা। গত এক বছরে ই-কমার্স খাতে লেনদেন হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। ঈদ, পূজা, নববর্ষসহ বিভিন্ন উত্সবে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ে কয়েক গুণ। সারা দেশের ই-কমার্সে আগ্রহী এমন সব ফেসবুক ব্যবহারকারীকে নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ফেসবুক ই-কমার্স গ্রুপ। যেখানে আগ্রহীরা একে অপরের কাছে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। জরিপ অনুযায়ী গত সাড়ে সাত বছরে দেশের এ খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইসিটি খাতে নারীদের নিয়ে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই)। আমি তো মনে করি, ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে আমাদের সবার নিজ নিজ প্রতিভার বিকাশ ঘটানো উচিত। নারীদের নিয়ে বিজনেস গ্রুপ হলেও আছেন অসংখ্য পুরুষ সদস্য। যারা প্রতিনিয়ত সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন নারীদের কার্যক্রমে। স্বাবলম্ব্বী শুধু পুরুষ নয়, হোক নারীও। এভাবেই ই-কমার্সের মাধ্যমে নিজ মেধা ও প্রতিভা দিয়ে এগিয়ে যাক আমাদের নারীরা এই কামনা করি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া
