নিরাপত্তা নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে ওয়াহিদার ব্যাচমেটদের বৈঠক

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৭

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয়সহ মাঠ প্রশাসনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে। ওয়াহিদার ব্যাচমেটদের দল বেঁধে সচিবালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও শঙ্কা লক্ষ করা যায়। এদিকে চুরিসহ কয়েকটি অভিযোগে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খারিজ করে দিয়েছেন। গত পরশু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারার বিধান উপেক্ষা করে ডিসির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের অভিযোগে উক্ত বিচারকের বিচারিক  ক্ষমতা এবং মাদারীপুর থেকে তাকে প্রত্যাহার করার প্রয়াস চলছে আইন মন্ত্রণালয়ে।

এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। সূত্র জানায়, ঐ আলোচনায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় প্রশাসনের বেশ কয়েকটি উদ্যোগকে ভুল বলে চিহ্নি?ত করে এসব ঘটনায় অন্যরা উত্সাহিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়। যশোরের মনিরামপুরের ইউএনওকে প্রত্যাহার, নাটোরের বড়াইগ্রামে ইউএনও ও ওসির মধ্যকার ঘটনাও প্রশাসন ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করা হয়। ইউএনও তারিক ইসলামকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে গ্রেফতারের বিষয়টিতে প্রশাসন নিশ্চুপ থেকেছে। ওসিদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ায় এখন তারা ইউএনওদের কোনো কথা মানতে চান না। ঘোড়াঘাটে পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে ইউএনওর বাসায় না যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। মাঠ প্রশাসনে যারা কাজ করছেন, তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই ধরনের চাপ মোকাবিলা করে কাজ করতে হয়। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখন ইউএনও ও এসি ল্যান্ড মিলিয়ে সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে ২৭০ জন নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন। ঘোড়াঘাটের ঘটনায় সংগত কারণেই তাদের মনের ওপর চাপ পড়বে।

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন বলছেন, এ ঘটনায় সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সত্য, কিন্তু ঘটনাটির পেছনের সত্য উদ্ঘাটিত হলে শঙ্কা দূর হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের শুধু বাসভবন নয়, সার্বক্ষণিক গানম্যান দিতে বলেছেন, সেটির বাস্তবায়ন দরকার। ইতিমধ্যে ৪৯২টি উপজেলায় ১২ জন করে অঙ্গীভূত সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গানম্যানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই কর্মকর্তা বলেন, ইউএনওদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করা, দূষণ রোধকল্পে ব্যবস্থা নেওয়া, ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, হাট-বাজার ইজারাসহ নানাবিধ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালনকারী ইউএনওদের পূর্বসূরি এসডিওদের ন্যায় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়। এরই আলোকে একই বছরের ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের কাছে ইউএনওদের গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তাবিধানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ঘোড়াঘাটের ঘটনার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে শুধু চিঠি চালাচালি হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, অঙ্গীভূত আনসারের বিদ্যমান পদ আরো বাড়াতে হতে পারে। আনসার সদর দপ্তর থেকে প্রস্তাব এলেই দ্রুততার সঙ্গে এসব পদ সৃজন করা হবে।