সুজানগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১৫ সহ আহত ২৫

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:২৩

পাবনার সুজানগরে জলাশয়ে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার রাণীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ অস্ত্রসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রশিদুল ইসলাম রাশু জানান, ভাটিকয়া গ্রামে একটি জলাশয়ে মাছ চাষ করা নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা খাইরুল মাস্টারের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবের সমর্থক ও রাণীনগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহীনের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হন।

খবর পেয়ে আমিনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জলাশয়টি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঐ ইউনিয়নের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় ব্যবহূত একটি লাইসেন্স করা বন্দুকসহ জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গুলিবিদ্ধরা হলেন ভাটিকয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাকিব (২৭), শাহাদত হোসেনের ছেলে রাজিব খান (৩০), মৃত মানিকের ছেলে উজ্জ্বল (৩২), আবদুল বাতেনের ছেলে রায়হান (৩২), মো. হোসেনের ছেলে জিন্নাহ সর্দার (২৭), হাসেন আলীর ছেলে সেলিম (২৬)  শাহিন (২৪) ও শাকিব (২০), ইব্রাহিমের ছেলে রফিকুল (৩২), মৃত ইদ্রিসের ছেলে রাশু মেম্বর (৪০), আব্দুল মতিনের ছেলে পেয়ারা ( ৩৮), মৃত হাকিমের ছেলে আমজেদ (৩২), সিদ্দিক খানের ছেলে আমির (৩৩) সহ কয়েক জন।

এ বিষয়ে রাণীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহীন রহমান বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করলে আমার পিতা শাহাদত আলী মাস্টার আত্মরক্ষায় তার লাইসেন্সকৃত বন্দুক দিয়ে ফায়ার করে।’

এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাবের প্রত্যক্ষ মদতে রাণীনগর যুবলীগের সভাপতি শাহিন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। রবিবার আব্দুল ওয়াহাবের নির্দেশেই জোরপূর্বক জলাশয়ের দখল নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। আমি এ বিষয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারেরও দাবি জানাচ্ছি।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জলাশয়টি অবৈধ দখলে রেখেছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন সেখানে মাছ ধরতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের মারপিট করলে সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলে গ্রুপিং সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আমি এ ব্যাপারে দলের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করব।’

 এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবিতে সুজানগরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।