উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রকাশিত ২০১৯-এর ‘অঙ্গীকার’-এ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনে কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপিত হয়।’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, এমপি, ‘২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হার বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল-হোসেন বলেছেন, ‘মিড-ডে-মিল পরিচালনা, মোবাইল ব্যাংকিংকের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন।’
সেকাল :বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম উপকূলীয় বৃহত্তর নোয়াখালীর রামগতি ১৯৭২ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি আগমন উপলক্ষ্যে গণশিক্ষা আন্দোলনের ক-খ-গ, ১-২-৩ লেখা পিন দিয়ে বুকে লাগিয়ে আমিসহ রামগতির শত শত মুক্তিযোদ্ধা, সমবায়ী-যুবক উত্পাদন উন্নয়নে, সড়ক নির্মাণ স্বেচ্ছাশ্রম কাজে অংশগ্রহণ করি। স্থানটি এখন বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সমবায় প্রতিষ্ঠিত রামগতিতেই ১২০টি গণশিক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে বিশ্বগ্রামসহ ১২টি কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
একাল:দেশে দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা-শিশুকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যত্ নিরক্ষরমুক্ত পরিকল্পিত জনসম্পদের বাংলাদেশ রচনা করতে হবে। উন্নয়ন বটম লাইনিং মা-শিশুকে ‘শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড’ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করতে হবে। যা শিশুর ভবিষ্যত্ শিক্ষাজীবন সুরক্ষিত করবে। মাতৃত্বকালীন ভাতাকেন্দ্রিক মৌলিক চাহিদা সংবলিত ‘স্বাস্থ্য কার্ড, শিক্ষা কার্ড, আবাসন, জীবিকায়ন-কর্মসংস্থান স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রমের আওতায় ‘শিক্ষা কার্ড’ একটি অংশ। শর্তযুক্ত ভাতাপ্রাপ্ত মা ঊর্ধ্বে দুই শিশুর জন্য চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রদেয় শিক্ষা কার্ড আওতায় অন্তত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জীবনভিত্তিক আনুষ্ঠানিক/ব্যাবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে। এরপর শিক্ষাদীক্ষা সমাপ্তে যে যার স্বাধীন সিদ্ধান্তে চাকরি বা শ্রমবাজারে যাবে। এ শিক্ষাকার্ড উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অথবা মাদ্রাসার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। সরকারিভাবে পাইলট ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ সফল মডেলটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতির পিতার জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়া, বাংলাদেশের জন্মস্থান মুজিবনগরসহ দেশের ১০টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করে।
শিক্ষা কার্ড পেয়ে প্রতিটি মা-বাবা শিক্ষার ওপর সরকার প্রদত্ত মালিকানা খুঁজে পায়। সরকার থেকে শিক্ষা কার্ড প্রদানের কারণে স্কুলে যায় না, গেলেও ঝরে পড়ে, শিখনকেন্দ্র ইত্যাদি আর লাগবে না। নিশ্চিত হবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মায়ের তাড়নায় উপস্থিতি শতভাগ টার্গেট পূরণ। মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা-বাবা সন্তানদেরকে এই ‘শিক্ষা কার্ড’ আওতায় এনে আগামী ২০ বছর দীর্ঘ মেয়াদে ১ কোটি মাকে টার্গেট করে সব শিশুকেই শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব। স্বপ্ন প্যাকেজ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব, তেমনি শিশুদের ‘শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড’ প্রবর্তন করে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
করোনা সংকটে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কাজ করছে। সৃষ্টিকর্তা ‘করোনা দুর্যোগ মোকাবিলা শিক্ষা’র মাধ্যমে সাধারণদের এগিয়ে দিচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত মাকে কেন্দ্র করে মাতৃত্বকালীন ভাতাকেন্দ্রিক শিশুদের এই অনানুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় কার্যকরভাবে না আনা হবে, ততদিন পর্যন্ত নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। ‘স্বপ্ন মা রানি’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মাতৃত্বকালীন ভাতা তিন বছর মেয়াদের স্থলে পাঁচ বছর করার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। যাতে একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন—ডিজিটালাইজড তথ্যভান্ডারে শিশুরা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো আওতায় আনুষ্ঠানিক পাঠক্রমে মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তি হতে পারে। তাহলেই বৈষম্যহীন শিক্ষার ভিত টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
n লেখক :কলামিস্ট ও প্রতিষ্ঠাতা, ডর্প
