বাংলাদেশের আপেল হিসেবে খ্যাত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু পেয়ারার একটি উন্নত জাত কাজি পেয়ারা। যা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের পাহাড়ি উর্বর জমিতে প্রচুর উত্পাদন হয়। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল আহরণ পর্যন্ত তেমন একটা রাসায়নিক সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না বলে ফলটি বেশ স্বাস্থ্যকর। পেয়ারার মৌসুমে চন্দনাইশের রৌশনহাট, কাঞ্চননগর, বাগিচাহাট থেকে দেশীয় এই ফল প্রতিদিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে একদিকে মানুষ যেমন দেশীয় ফলের স্বাদ পায়, অন্যদিকে পেয়ারা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চল থেকে প্রতিদিন পেয়ারা সংগ্রহ করে বাজারে আনতে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। শত শত শ্রমিককে কয়েক মাইল পথ পায়ে হেঁটে পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশের বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে আনতে হয়। এর একমাত্র কারণ রাস্তা ভালো নয়। যানবাহন চলাচলের জন্য উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টির দিনগুলোতে চরম সংকটে পড়তে হয়। উপযুক্ত যাতায়াতব্যবস্থার অভাবে পেয়ারা চাষে দুর্ভোগ ও খরচ আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যা আগামীতে পেয়ারাচাষিদের পেয়ারা চাষে অনীহা জাগাতে পারে। আর এমন হলে পেয়ারা উত্পাদন কমে যাওয়া অসম্ভব নয়। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পেয়ারাচাষিদের যাবতীয় দুর্ভোগ লাঘবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বাইরেও এই পেয়ারার সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশীয় ফলের উত্পাদন বাড়াতে সহায়তা করা।
মুহাম্মদ আবু হানিফ
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
