কয়রায় ১১ বছরেও হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ!

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৬

খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮০ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ দীর্ঘ ১১ বছরেও হয়নি। প্রতিশ্রুতি-পরিদর্শন আর পরিকল্পনার মধ্যে আটকে আছে বাঁধ নির্মাণ। তিন মাস আগে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর সে কারণে লক্ষাধিক মানুষ উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এলাকাবাসী জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় কয়রা উপজেলা। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ১০ মে ফণী ও ১০ নভেম্বরের বুলবুলে বাঁধ ভেঙে বেশ ক্ষতি হয়। এরপর গত ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানে ৪ ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে বাঁধ, ঘরবাড়ি সব তছনছ হয়ে যায়। উপজেলার ২১টি স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রথম দিকে ৯টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি প্রবেশ করে। পরে আরো পাঁচটি স্থান ভেঙে যায়। এতে ৪২টি গ্রাম লবণ পানিতে প্লাবিত হয়। আজও সেই লোনা পানি থেকে মুক্তি মেলেনি কয়রার অধিকাংশ মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে ২০ আগস্ট জোয়ারের পানিতে আবারও বাঁধ ভেঙে কয়রায় চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। পাউবোর এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উপকূলীয় এলাকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করার কথা জানানো হয়। এরপর চলতি অর্থবছর থেকে এ কাজ শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। চারটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি খুলনার এবং অপর দুটি সাতক্ষীরায়। পাউবোর সাতক্ষীরা জোনের ৫ ও ১৫ নম্বর পোল্ডার প্রকল্পভুক্ত হলেও অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত ১৪/১, ১৪/২ পোল্ডার দুটি টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্পভুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। অথচ এ দুটি পোল্ডার মারাত্মক নদীভাঙনকবলিত উপকূলীয় জনপদ হিসেবে পরিচিত। ২০০৭ সালে সিডর, ২০০৯ সালে আইলা ও ২০২০ সালে আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে ১৪/১, ১৪/২ পোল্ডার বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জি এম কবি শামছুর রহমান বলেন, তার ইউনিয়নে পাউবোর ২৭ কিলোমিটারসহ উপজেলার সিংহভাগ বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জাইকা ও বিশ্বব্যাংকের লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ এ সব বাঁধ কয়েকবার পরিদর্শন করে গেছে। পাউবো সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু সরকার বলেন, কয়রার বাঁধগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা বাঁধ নির্মাণে কিছু কাজ করছি। জাইকা ও বিশ্বব্যাংকের লোকজন পরিদর্শন করেছেন। কয়রার ১৪/১ ও ১৪/২  পোল্ডারের দুটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। গত জুলাই মাসে ১৪/১ পোল্ডারের প্রকল্পটি প্লানিং কমিশনে চলে গেছে। এখন একনেকে পাশ হলে তবেই বলা যাবে কবেনাগাদ কাজ শুরু করা যাবে।