পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে তিন দিন থানায় রেখে পাশবিক নির্যাতন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৯

চুরির অভিযোগে মো. ফরিদ মিয়া (৩০) নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসির) পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঐ কর্মীকে তিন দিন থানায় আটকে রেখে হাত-পা ও চোখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন মির্জাপুর থানার এস আই মো. আবুল বাশার মোল্লা এবং এ এস আই মেহেদী হাসান। এমন অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদ মিয়া। ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে    ফরিদ মিয়া পুলিশ সুপার ও দুই এস আইকে আসামি করে টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (মির্জাপুর অঞ্চল) মামলা করেছেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে র্যাব-১২ কমান্ডিং অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ফরিদ মিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে ফরিদ লিখেছেন, ‘গত ১৩ মার্চ পিটিসির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বাসায় কাজ করে বাসায় চলে আসি। বিকালে তিনি আমায় ফোন করে বলেন, এখনই বাসায় এসো। আমি বাসায় যাওয়া মাত্র তিনি আমাকে বলেন, তুমি বাসা থেকে আমার স্ত্রীর এক লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছ। তিনি আমার কোনো কথা না শুনেই বাসার একটি কক্ষের দরজা আটকে আমাকে অমানবিক নির্যাতন করেন। তারপর মির্জাপুর থানার এস আই মো. আবুল বাশার মোল্লা ও এ এস আই মেহেদী হাসান আমাকে থানায় নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তিন দিন থানায় আটকে রেখে একাধিকবার নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তিন দিন পর আমার বাড়িতে খবর দিয়ে ভাই সমেজ, চাচা আব্দুল মান্নান, স্ত্রী মুক্তা ও ভাতিজা মহর আলীকে থানায় ঢেকে এনে এস আই আবুল বাশার ও মেহেদী হাসান ১ লাখ টাকা দিতে বলেন এসপি মো. আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীকে দেওয়ার জন্য। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো ভয় দেখান। নিরুপায় হয়ে আমার পরিবার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার দেনা করে বাশার ও মেহেদীর হাতে তুলে দেয়।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার এস আই মো. আবুল বাশার মোল্লার ও এস এস আই মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, পিটিসির এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ৭০ হাজার টাকা এসপি স্যারকে দিয়ে ফরিদ মুক্তি পেয়েছে। থানায় তাকে নির্যাতন করা হয়নি। এ ব্যাপারে পিটিসির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দেন। অবশ্য এর আগে এক বক্তব্যে তিনি ফরিদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করেন এবং নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।