সৌদি আরবের ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় আটজনকে সাজা দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার দেশটির সরকারি কৌঁসুলি ওই আটজনের সাজা ঘোষণা করেন। মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়, ঐ মামলার কৌঁসুলি জানিয়েছেন, খোশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে পাঁচজনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর তিন আসামিকে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলির বরাত দিয়ে সৌদির আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই রায়ই চূড়ান্ত এবং এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর আগে গত মে মাসে খাশোগির ছেলেরা জানায়, তারা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন। এর কয়েক মাসের ব্যবধানে এই রায় এলো।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন খাশোগি। পরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রমাণসহ জানায়, কনস্যুলেটে সৌদি আরবের ভাড়া করা একদল খুনির হাতে নির্মম হত্যার শিকার হন তিনি।
হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। ঝলসিয়ে দেয়া হয় এসিড দিয়ে। ২ বছর হতে চললেও এখনো তার মরদেহের হদিস মেলেনি। আল জাজিরাকে খাশোগির পারিবারিক বন্ধু জাহশান বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো জামাল খাশোগির মরদেহ কোথায়? আমি চাই তার মরদেহের সঙ্গে কী হয়েছে তাও উদঘাটন করা হোক। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচক ছিলেন।
বেশ কয়েকটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে হত্যার মিশন সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে বলেও খবর প্রকাশ হয়। চূড়ান্ত রায়ের পরও খাশোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় রায় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
২০১৯ সালের জুনে জাতিসংঘের বিশেষদূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তার প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির কর্মকর্তারা জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। খাশোগি হত্যার জন্য সৌদি কর্মকর্তাদের দায়ী করেন ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটরও।
ইত্তেফাক/এসআই
