করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। সোমবার সকালে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৯০ হাজার ৮০২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করতে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ রাখার পর ফের ভারতের রাজধানী দিল্লির মেট্রো রেল খুলে দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এনডিটিভির।
সোমবার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ভারতে শনাক্ত হওয়া মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ চার হাজার ৬১৩ জনে। অপরদিকে ব্রাজিলে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৪১ লাখ ৩৭ হাজার ৫২১ জন। ফলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিয়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পরই এখন ভারতের অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হওয়া মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছিল ৬২ রাখ ৭৬ হাজার ৩৬৫ জন। ব্রাজিলের চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি আক্রান্ত নিয়ে এগিয়ে আছে ভারত।
পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ভারতে একদিনে ৯০ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে কখনোই কোনো দেশে ২৪ ঘণ্টায় এত বেশি কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া যায়নি। রবিবার শনাক্ত রোগীর সংখ্যার নতুন রেকর্ড করার একদিন পরই তা ভেঙে আরেকটি রেকর্ড গড়ল ভারত। শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শনাক্ত রোগীর তালিকায় নতুন করে ৯০ হাজার ৬৩২ জন যুক্ত হয়েছিল। কয়েকদিন আগেও ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে জুলাইয়ের মাঝামাঝি একদিনে ৭৭ হাজার ২৯৯ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছিল। একদিনে ৭৮ হাজারের বেশি শনাক্ত রোগী নিয়ে গত সপ্তাহেই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ওই রেকর্ড ভেঙে ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে বিশ্বের মধ্যে দৈনিক সবেচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের কথা জানিয়ে আসছে ভারত।
মোট মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় স্থানে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি। সোমবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ এ আরো ১০১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। এদের নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন দেশটিতে এক হাজারেরও বেশি কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। মোট এক লাখ ৮৮ হাজার ৯৮১ মৃত্যু নিয়ে এ তালিকায়ও শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট মৃতের সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ৬৫০ জন।
এদিকে করোনার বিস্তার রোধ করতে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ রাখার পর ফের ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ বেশ কিছু জায়গায় মেট্রো চালু করা হয়েছে। এটি ভারতের বৃহত্তম দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা। ভারতজুড়ে লকডাউন শুরুর আগে মেট্রোতে দৈনিক ২৭ লাখ যাত্রী চলাচল করতো। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধের মধ্যে মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও যাত্রীদের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে দুইটি লাইনে মেট্রো চলাচল শুরু হয়। একই দিন সকালে রাজধানীর পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, লখনউ, কোচি ও নয়ডাতেও মেট্রো সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
