মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে রামগতি উপজেলার ব্রিজ-কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে চলাচল দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও পানির তোড়ে ২০ কিলোমিটার পাকা এবং ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে ওই সব সড়কে যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা হাঁটা-চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারণে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে গত ৫-৯ এবং ১৮-২২ আগস্ট পর্যন্ত দুই দফায় মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে যায়। এতে করে প্রতিদিন দুইবার নদীর তীরবর্তী বালুরচর, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, বাংলাবাজার, আসলপাড়া, সবুজগ্রাম, পৌরসভার আলেজান্ডার, সেবাগ্রাম, চরটগবী, চরআলগী, গাবতলী, চরগোসাই, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
জোয়ার ও ভাটার পানির তোড়ে উপজেলার ছয়টি ব্রিজ, ১৫টি কাঠের পুল ও ২০টি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ধসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়াসহ জোয়ারের স্রোতে উপজেলার ২০ কিলোমিটার পাকা ও ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া পাকা সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ও খোয়া ওঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান তারা।
উপজেলার চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী বলেন, ব্রিজ, কালভার্ট ও কাঁচা-পাকা সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ওই সব সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা যায়নি।
চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, ইউনিয়নটি উপজেলার দুর্গম ও বিচ্চিন্ন এবং চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত। কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় মেঘনার জোয়ার বাড়লেই পুরো ইউনিয়নটি পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এবার দুই দফায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ইউনিয়নের কাঁচা সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, পানির স্রোতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের ১৪টি কাঠের পুল ধসে পড়েছে। এছাড়াও ১০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ভেঙে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জোয়ারে উপজেলায় ছয়টি পাকা সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুই কোটি এবং ছয়টি ব্রিজ ধ্বসে এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বরাদ্দ পেলে সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাকা সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্টগুলো জরুরি মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
