চেতনায় বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১০

দৈনিক ইত্তেফাক এর ‘অনুশীলন স্কুলে-স্কুলে’ ও স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘শেখার জন্য লেখা’ এর এবারের বিষয় ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’। শোকের মাস আগষ্ট এ আমরা স্মরণ করছি জাতির মহানায়ককে এবং তাঁর অবদানকে। আর তার আদর্শকে ধারণ করা নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনাকে তুলে ধরতেই এবারের আয়োজনে ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’।  এই লেখা প্রতিযোগিতার প্রথম তিনজনের লেখা ছাপানো হবে ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।

 

এ.এস.এম.জোবায়ের রহমান

কৃষি অনুষদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 

“এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম”

কথাটির মাধ্যমে যেন বাংলাদেশ পরাধীনতার ছায়া থেকে স্বাধীনতার স্বাদ  সেদিনই পেয়েছিল। তাঁর এই ভাষণটি ছিল ঐতিহাসিক ও শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মাঝে একটি। স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পশ্চিম পাকিস্তান যখন পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলাদেশ) শোষণের আওতায় সর্বস্ব কেড়ে নিতে চেয়েছিল ঠিক সেই সময়েই এই মহানায়ক আবির্ভূত হন এাতা হিসেবে। রাজনীতির বেড়াজালে জড়িয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় জেলে কাটাতে হয় অনেকটা সময়। জেলবন্দি জীবন নিয়েই লড়াই চালিয়ে গেছেন এই মহান নেতা। রাষ্ট্রভাষা থেকে শুরু করে, যুক্তফ্রন্ট গঠন, ছয়দফা আন্দোলন, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও নানান সংগ্রামে এই মানুষ ছিলেন সাধারণ মানুষের পরম বন্ধু। সর্বদা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এই মহান নেতা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন সারাটি জীবন। বাংলার মানুষের জন্য সর্বদা নিজেকে উত্সর্গ করেছেন। ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এই মহান নেতা-

এবং বার্তা দেন “এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।”

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এই মহান নেতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটাকে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিতে না নিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে সকলকেই একদল ঘাতকের হাতে জলাঞ্জলি দিতে হলো। এই দিনটায় দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। বাংলাদেশ হারিয়েছিল তাদের মহানায়ককে। ঘাতকরা সফল হতে পারেনি, কোটি কোটি মানুষের হূদয়ে মুজিব এখনও জাগ্রত, বাংলাদেশের সকল মানুষের চেতনায় এখনও মুজিব বাস করে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কী’ এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’ ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার বড় দুর্বলতাটা কী’- এ প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসি।’ একথার মাধ্যমে ফুটে উঠে দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তিনি বাংলাদেশের জনক। বাংলাদেশের সকল মানুষের চেতনায় তিনি আজীবন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।