লাগাম টানিয়া ধরুন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও এবং তাহার পিতার উপর হামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম পৌর যুবলীগের সদস্য। রংপুরে স্কুলশিক্ষিকা ধর্ষণের মামলার আসামি মেহেদি হাসান সিদ্দিকী রনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি! কতজনের নাম আমরা বলিব? পত্রিকার পৃষ্ঠা উলটাইলেই ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, সরকারি কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা, চাঁদাবাজি—সর্বক্ষেত্রে সরকারি দলের মূল দল অথবা অঙ্গসংগঠনের সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম দেখিতে পাওয়া যায়। বলিলে অত্যুক্তি হইবে না, ইহারা প্রশাসনিক কাঠামোকেই দুর্বল করিয়া দেয়। শুধু বর্তমান সরকারই নহে, আমরা বিগত দিনে যেই সকল দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের সকলের কাঁধেই এই অপশক্তি ভর করিতে দেখিয়াছি। বলা যায়, একটি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ‘প্রতিষ্ঠা’ লাভ করিয়াছে! তাহার পরও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগিয়া উঠে, যেই সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠে, যেই সকল ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ে জড়িত থাকেন তাহারা স্থানীয় পর্যায়ে দলের ভারী ও দায়িত্বশীল পদ পান কী করিয়া? ইহা কাহাদের দুর্বলতা বলিয়া চিহ্নিত করিব আমরা?

ইহা সত্য যে, সরকারপ্রধান এই সকল অপশক্তি সম্পর্কে সাবধান করিতেছেন, দলে শুদ্ধি অভিযানের চেষ্টা করিতেছেন; কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তাহার ফল জনগণ পাইতেছে কি? দেশব্যাপী এই সকল অপকর্মে জড়িত এবং সরকারি দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী এই সকল ব্যক্তি কাহারা? তাহাদের বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? সেই পরিচয় যদি কাহারো ঠিকও থাকে, তাহা হইলেও কি এহেন অপরাধ মানিয়া লইতে হইবে?

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহে যতরকম অন্যায়-অপকর্ম হইয়া থাকে এবং যাহারা এইগুলি করিয়া থাকেন এবং করিয়া পার পাইয়া যান তাহারা প্রায় সকলেই ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকেন; কিন্তু উপরের হুকুম কী, আর নিচে কী হইতেছে—তাহা দেখিবার যেন কেহ নাই। ইহাও মাথায় রাখিতে হইবে যে, এই সকল ব্যক্তি নিশ্চয়ই কাহারো না কাহারো আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ফ্রাংকেনস্টাইন হইয়া উঠে। আর এই সকল কারণেই যখন সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশনার সহিত মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে চরম অসংগতি দেখা দেয় তখন মানুষের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হওয়া অস্বাভাবিক নহে যে, সকলই আই ওয়াশ মাত্র। তাই আমাদের পরামর্শ থাকিবে, যাহা বলিতেছেন, যাহা চাহিতেছেন তাহা কঠোর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়া বাস্তবায়নের পথে হাঁটিতে হইবে। যাহারা দলের নাম ভাঙাইয়া নিজেদের স্বার্থ হাসিল করিতেছে তাহাদের লাগাম টানিয়া ধরিতে হইবেই। আমাদের জীবদ্দশায় আমরা দেখি নাই যে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ্যের মতো আইনের অধীনে আসিয়াছে। এই ধারার ব্যত্যয় ঘটাইতে পারিলেই কেবল আমরা একটি সরকারকে দেশের দীর্ঘকালের অসুস্থ চর্চা হইতে ব্যতিক্রম অথবা উত্তীর্ণ সরকার বলিয়া চিহ্নিত করিতে পারিব। যাহারা   অন্যায়, অপরাধে লিপ্ত রহিয়াছে; যাহারা দলকে ব্যবহার করিতেছে এবং দলের নীতির পরিপন্থি কাজে লিপ্ত রহিয়াছে তাহাদের বাছাই করিয়া ফেলা এখন অত্যন্ত       জরুরি। আশার কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই শুদ্ধতার জন্য কিছু উদ্যোগ লইয়াছেন; কিন্তু এই দায়িত্ব তিনি একা পালন করিতে পারিবেন না। মানুষ হিসাবে ইহা কাহারো দ্বারা একা সম্পাদন করা সম্ভব নহে, যতক্ষণ সহায়ক শক্তি ঘুম হইতে জাগিয়া না উঠে।