সম্প্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩০ হাজার কুকুর নিধনের। কুকুর গুটিকয়েক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া দেখিনি কাউকে ক্ষতি করতে। বরং তারা নীরবে, নিভৃতে আমাদের উপকার করে যাচ্ছে। অপ্রিয় বাস্তব কথা হচ্ছে, ঢাকা সিটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট, বসবাস অযোগ্য শহরের মধ্যে অন্যতম প্রধান। যে শহরে কোটি কোটি লোক প্রতিনিয়ত করে চলেছে বায়ু, পানি, মাটি, পরিবেশ দূষণ—সেখানে বাস্তুসংস্থান রক্ষাকারীদের মধ্যে অন্যতম পশু এই কুকুর। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঠিক রাখছে আমাদের বাস্তুসংস্থান। অনেকে কুকুর নিধনের পক্ষে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা কুকুরের কামড়ানোর কথা বা কুকুরে দৌড়ানি দিয়েছে বলে এসব সস্তা যুক্তি দেখিয়ে বাস্তুসংস্থানের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাচ্ছেন। কুকুর নিধন করে কোনো সমাধানে আসা যাবে বলে আমার মনে হয় না বরং এর বিকল্প পথ দেখুন। কুকুরের ভ্যাক্সিন আছে সেটা নিয়ম করে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে। আর দৌড়ানি দিয়েছে বলছেন—রাস্তাঘাটে যেখানেই দেখবেন সেখানেই হয় ঢিল ছুড়বেন না হয় লাঠি মারবেন, তা না হলে ভ্যাংচি কাটবেন। এটা যখন আপনার বাবা-মায়ের দেওয়া উত্তম শিক্ষার মধ্যে একটা পড়ে, ঠিক তার বিপরীতে ফলস্বরূপ বেশিরভাগ কুকুরই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু অল্প সংখ্যক কিছু ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী কুকুর ধাওয়া করে। তাই বলব—কুকুর নিধন নয়, বরং বিকল্প পদ্ধতি ভাবুন। তাহলে বাঁচবে জীব, বাঁচবে পরিবেশ। জেগে উঠবে জীবের প্রতি মানবতা।
রফিকুল ইসলাম তামিম
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
