স্পোর্টস রিপোর্টার
বাফুফের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র একদিনেই জমা দেওয়া হয়ে গেছে। শনিবার পর্যন্ত প্রত্যাহার করা যাবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে বাফুফে অঙ্গন ছিল সরব। ফুটবল সংগঠকদের সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় তাদের অনুসারীরাও এসেছিলেন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাজী সালাহউদ্দিন, বাদল রায় এবং শফিকুল ইসলাম মানিক। সিনিয়র সহসভাপতি পদে শেখ মো. আসলাম এবং আব্দুস সালাম মুর্শেদী। সহসভাপতি পদে কাজী নাবিল আহমেদ, তাবিথ আউয়াল, ইমরুল হাসান, শেখ মারুফ হাসান, মহিউদ্দিন মহি, আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, আমিরুল ইসলাম বাবু, আতাউর রহমান মানিক মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১৫টি সদস্য পদের জন্য ৩৬ জন মনোনয়ন জমা দেন।
বিকালে কাজী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদ ২১ জনের পূর্ণ প্যানেল জমা দেয়। পরে তিনতলায় মিনিট পাঁচেক সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে বিপক্ষ প্রার্থী সম্পর্কে কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখনই কিছু বলব না। আমরা ১৪/১৫ তারিখে ফাইনালি সব কথা বলব।’ এরপর সালাম মুর্শেদীকে মাইক্রোফোন তুলে দেন তিনি। সালাম বলেন, ‘ক্লাব, জেলা, বিভাগ নিয়ে আমরা এমন একটা প্যানেল করেছি যেখানে হয়তো সবার জায়গা হয়নি। কিন্তু সবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। আমরা তৃতীয় বিভাগের ক্লাব কর্মকর্তাকেও রেখেছি। সবাইকে নিয়েই আমরা কাজ করব।’
সকালে সবার আগে মনোনয়ন জমা দিয়ে বর্তমান সহসভাপতি তাবিথ আউয়াল দাবি করেন, তিনি ফুটবলের জন্য কতোটুকু কাজ করেছেন তা দেশের মানুষের জানা আছে। তিনি বলেন, ‘পুরুষ এবং মেয়েদের ফুটবলের র্যাংকিংয়ে আমরা একটু পিছিয়ে আছি। এটা নিয়ে আরো বেশি কাজ করতে হবে। সব জেলার তৃণমূলে খেলাটা যায়নি। এটা করতে হবে। আমার বিশ্বাস অতীতের কাজ আমাকে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।’
জাতীয় দলে কাজ করলেও বাফুফের নির্বাচনের সময় তাবিথকে একাই লড়াই করতে হয়। প্যানেলে থাকেন না। গতবারও তার মাথার ওপর প্যানেল নামের ছাতা ছিল না। ভোটারদের ওপর নির্ভর করে লড়াই করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হয়েছেন। এবারও ভোটাররা তাকে বিবেচনা করবেন এমন আশার কথা শুনিয়ে তাবিথ বললেন, ‘প্যানেলে থাকলে নিজের সঙ্গে অন্যদের জন্য দায়িত্ব নিতে হয়। একা থাকলে সেটি হয় না। প্যানেলে থেকেও অনেকে পাশ করে না। যত কিছুই হোক, নির্বাচনে পাশ করতে হলে একাই লড়াই করতে হয়।’
সভাপতি পদে বাদল রায় তার প্রদীপ নামের এক জনকে পাঠিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আর দুপুরে শফিকুল ইসলাম মানিক নিজেই ভবনে গিয়ে জমা দিয়েছেন। মানিক সাফ জানিয়েছেন, তিনি প্রত্যাহার করবেন না। এটা কোনো পাতানো খেলা নয়। তিনি ৯০ মিনিটই খেলবেন। বাফুফের বর্তমান কমিটির ওপর তার আস্থা নেই। তারা ফুটবলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। মানিক ভোটারদের স্বচ্ছ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাইবেন।’
সিনিয়র সহসভাপতি পদে সালাম মুর্শেদীর বিপক্ষে শেখ মো. আসলাম মনোনয়ন জমা করতে অন্য এক জনকে পাঠিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যম শেখ মারুফ হাসানকে ঘিরে ধরলে তিনি প্রথমেই বলেন, ‘প্রশ্ন করবেন না। সহসভাপতি পদে মনোনয়ন দাখিল করলাম। ভোট চাই ভোটারের, দোয়া চাই সকলের।’
