রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
রাজারহাটে অব্যাহত রয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসা, ছয়টি ক্রসবাঁধ, দুইটি বেড়িবাঁধ, বেশ কয়েকটি হাটবাজার ও ফসলি জমি। এদিকে ভাঙন আতঙ্কে নদীর পাড় থেকে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা। ভাঙন প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যাবধায়নে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেছেন তারা। মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে গাবুর হেলান, ডাংরারহাট, চতুরা, কালিরহাট ও বুড়িরহাট এলাকার মানুষজন ঘরবাড়ি সরিয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁধের রাস্তায় কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। ভাঙনকবলিত এলাকার গাবুর হেলার গ্রামের আইজার আলী (৫৬), আ. মান্নান (৬০), আবুল হোসেনসহ (৬৫) একাধিক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, নদীর ভাঙনে আমরা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন অন্যের জায়গায় কোনো রকম মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারিভাবে যে সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি তাতে আমাদের কিছুই হয় না। আরেক বাসিন্দা একাব্বার আলী (৭৫) বলেন, আমরা সাহায্য চাই না। নদী শাসনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা চাই। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে।
