চীন না রাশিয়া, কার ভ্যাকসিন আগে আসবে বাজারে?

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৮

করোনা ভাইরাস মহামারির এই পর্যায়ে গোটা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে রয়েছে কার্যকর একটি ভ্যাকসিনের দিকে। বিভিন্ন দেশে শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চললেও হাতেগোনা কয়েকটি ভ্যাকসিনই ঘুরেফিরে আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে সঙ্গে নিয়ে আসথ্রাজেনিকার তৈরি ‘এজেডডি১২২২’, রাশিয়ার তৈরি ‘স্পুটনিক ভি’ এবং চীনের ‘সিনোভ্যাক বায়োটেক’ ও ‘সিনোফার্মের’ তৈরি ভ্যাকসিন। এই তিনটি ভ্যাকসিনের মধ্যে শুধু অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনেরই তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। রাশিয়া কিংবা চীন দুই দেশের ভ্যাকসিনেরই তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এখনো অসম্পূর্ণ। অথচ দুই দেশই চেষ্টা করছে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার।

তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের মুখেই রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শরীরে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মেয়ের পর ভ্যাকসিন নিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ভালো আছেন। শরীরে কোনো অস্বস্তি নেই। ট্রায়াল সম্পন্ন না করে এভাবে মানবদেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ বিপজ্জনক বলে নানা সমালোচনা চললেও রাশিয়া               জানিয়েছে, এই সেপ্টেম্বরেই বাজারে আসতে চলেছে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন। ইতিমধ্যে সরকারি স্তরে ভ্যাকসিনেশন শুরু করে দিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়া সর্বপ্রথম দেশীয় ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছিল। কিন্তু চীন তারও আগে নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিন দেশের মানুষকে প্রয়োগ করা শুরু করে দিয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অসম্পূর্ণ। উভয়েই তাদের গবেষণা গোপন রেখেছিল। এই প্রথম নিজেদের ভ্যাকসিন প্রকাশ্যে আনল চিন। সোমবার বেইজিংয়ে বাণিজ্য মেলায় ‘সিনোভ্যাক বায়োটেক’ ও ‘সিনোফার্ম’-এর তৈরি ভ্যাকসিনটি প্রদর্শন করা হলে তা দেখতে ভিড় জমায় মানুষ।

সরকার ছাড়পত্র দিয়ে দিলেও এখনো বাজারে ছাড়া হয়নি চীনা ভ্যাকসিন। তবে জানানো হয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পূর্ণ হয়ে গেলে বাজারে ছাড়া হবে। তার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সিনোভ্যাকের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে একটি ভ্যাকসিন কারখানা তৈরি করে ফেলেছেন তারা। এক বছরে অন্তত ৩০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির।—আনন্দবাজার